ইরানের আকাশসীমা বন্ধ, উত্তেজনা চরমে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ, উত্তেজনা চরমে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম  জানিয়েছে, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ইরানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের মুখপাত্র মাজিদ আখভান মেহের নিউজ এজেন্সিকে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের পুরো আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। এই ঘোষণার ফলে দেশটিতে প্রবেশ ও দেশত্যাগকারী সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ইতোমধ্যে বিকল্প রুট বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজধানী তেহরান-এ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ইসরাইল জরুরি অবস্থা জারি করার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে তেহরানের উত্তর ও পূর্বাংশে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে, যদিও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা  এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন না। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে একটি ‘নিরাপদ স্থানে’ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে ইরানের সরকারি দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা  জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম । তবে বিস্ফোরণের উৎস, লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, ভোরের দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর থেকেই এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়। যদিও সরকারি সূত্রে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা মেলেনি, তবুও মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া একটি বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সাধারণত বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য পাল্টা হামলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির সময় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আকাশসীমা খোলা থাকলে বেসামরিক উড়োজাহাজ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত পরিস্থিতিতে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বর্তমান ঘটনার প্রেক্ষাপটে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

বিমান চলাচল বন্ধের ফলে শুধু ইরান নয়, আঞ্চলিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়েছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন ইতোমধ্যে বিকল্প রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার ফলে ভ্রমণের সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। পর্যটন, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

ইরানের অভ্যন্তরেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই উত্তেজনা কতদূর গড়াবে। আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে তেহরান। তবে সংঘাতের মাত্রা, হামলার প্রকৃত উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল দুই-ই বাড়ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত