নেপাল থেকে বলিউডে শুভর স্বপ্নযাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
নেপাল থেকে বলিউডে শুভর স্বপ্নযাত্রা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ–র বলিউড যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে এক ভিন্ন মাত্রায়। কোনো পার্শ্বচরিত্র নয়, সরাসরি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিজ জ্যাজ সিটি–তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ১৯ মার্চ তার আনুষ্ঠানিক বলিউড অভিষেক। আর এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুটা হয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত বার্তায়, যখন তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন।

শুভ জানান, সিরিজটির জন্য তার সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেন বলিউডের প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। সে সময় তিনি নেপালে ছিলেন। একটি ওয়েব সিরিজের জন্য অডিশনের প্রস্তাব পান। কোনো দ্বিধা না করে রাজি হয়ে যান। সেই মুহূর্তে হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি, এই অডিশনই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর অবশেষে নিশ্চিত হয় তার নাম। কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক প্রচারণা অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে পরিচালক সৌমিক সেন–এর সঙ্গে শুভর খুনসুটি দর্শকদের হাসির রোল তোলে। শুভ মজা করে বলেন, গত তিন বছরে পরিচালক প্রথমবার তার প্রশংসা করলেন। এই কথায় হলভর্তি অতিথিদের মধ্যে হাসির ঢেউ ওঠে, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প।

ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভ জানান, অডিশনের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। দুই বছর ধরে তাকে চিত্রনাট্য পাঠানো হয়েছে। কখনও শুধু অডিও পাঠিয়ে অডিশন নেওয়া হয়েছে, কখনও মুম্বাইয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। একই দৃশ্য একাধিকবার, ভিন্ন ভিন্নভাবে রেকর্ড করে পাঠাতে হয়েছে। কখনও প্রশংসা, কখনও নীরবতা—এই ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হন তিনি।

পরিচালক সৌমিক সেন শুধু এই সিরিজ পরিচালনাই করেননি, গল্প ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন। তার আগের কাজের মধ্যে রয়েছে গুলাব গ্যাং এবং মহালয়া। পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় সিরিজ জুবিলি–এর চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ‘জ্যাজ সিটি’ নির্মাণের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, সিরিজটির প্রতিটি এপিসোডে থাকবে অন্তত একটি গান ও একটি খুনের ঘটনা। অ্যাকশন ও সঙ্গীতের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার এই সিরিজটি মুক্তি পাবে Sony LIV প্ল্যাটফর্মে। বিশেষত্ব হলো, হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি এবারই প্রথম বাংলা ভাষায়ও মুক্তি পাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটির কোনো সিরিজ। ফলে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এটি একটি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

‘জ্যাজ সিটি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র জিমি রয় হিসেবে দেখা যাবে আরিফিন শুভকে। পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে তার চরিত্রকে ঘিরে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার লড়াই, অপরাধ আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে জটিল এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। জানা গেছে, এই প্রজেক্টে শুভকে চারটি ভাষায় সংলাপ বলতে হয়েছে—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। ভাষাগত প্রস্তুতির জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে।

সিরিজে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মিত্র। এছাড়া রয়েছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহা–সহ বলিউড ও টলিউডের একঝাঁক পরিচিত মুখ। ফলে সিরিজটি ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে উচ্চ প্রত্যাশা।

বাংলাদেশি অভিনেতাদের জন্য বলিউডে সুযোগ পাওয়া নতুন নয়, তবে প্রধান চরিত্রে দীর্ঘমেয়াদি সিরিজে অভিনয় করা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। বিশ্লেষকদের মতে, শুভর এই সাফল্য দুই দেশের বিনোদন জগতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের যুগে ভাষা ও ভূগোলের সীমা অনেকটাই ভেঙে গেছে।

শুভর জন্য এটি কেবল নতুন একটি কাজ নয়; এটি এক নতুন অধ্যায়। নেপালে একটি হঠাৎ বার্তা থেকে শুরু হওয়া পথচলা আজ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছেছে। এই যাত্রা প্রমাণ করে, ধৈর্য, প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে সুযোগ একদিন দরজায় কড়া নাড়েই।

১৯ মার্চ মুক্তির পরই বোঝা যাবে দর্শক কীভাবে গ্রহণ করেন ‘জ্যাজ সিটি’ এবং জিমি রয় চরিত্রে আরিফিন শুভকে। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া বলছে, এই সিরিজটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। বাংলাদেশের দর্শকরাও অপেক্ষায় আছেন—নিজেদের একজন তারকাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত