আজ ইডেনে ‘ডু অর ডাই’ ভারত-উইন্ডিজ লড়াই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ভারত-উইন্ডিজ লড়াই

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে আজ এমন এক সন্ধ্যা অপেক্ষা করছে, যেখানে ভুলের সুযোগ প্রায় শূন্য। রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনস–এ মুখোমুখি হচ্ছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। দুই ম্যাচে দু’দলের ঝুলিতে একটি করে জয়। ফলে সমীকরণ একদম স্পষ্ট—জয়ী দল নিশ্চিত করবে সেমিফাইনাল, পরাজিতদের জন্য অপেক্ষা করবে বিদায়।

এবারের আসরে ফেবারিট তকমা নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল ভারত। গ্রুপ পর্বে তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ছন্দ ছিল ঈর্ষণীয়। আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ধাক্কা খায় তারা। সেদিন ব্যাটিং লাইনআপে দেখা যায় অস্বস্তি। মিডল অর্ডার গুছিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তবু পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। সেই জয়ের পর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সমর্থকেরা।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গল্পও কম নাটকীয় নয়। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় তাদের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার পথকে কঠিন করে তোলে। ফলে আজকের ম্যাচ ক্যারিবীয়ানদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। ইতিহাস বলে, বড় ম্যাচে উইন্ডিজ কখনো ভয় পায় না। চাপের মুহূর্তে তারা বরাবরই আগ্রাসী ক্রিকেট উপহার দিয়েছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এগিয়ে ভারত। এখন পর্যন্ত ৩০ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৯ জয় ভারতের, ১০টি উইন্ডিজের। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চিত্র আলাদা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় তিনবারই জয় পেয়েছে ক্যারিবীয়ানরা। বিশেষ করে ২০১৬ আসরে তাদের ৭ উইকেটের জয়ের স্মৃতি এখনো তাজা। ভারত একমাত্র জয় পায় ২০১৪ সালে। সেই ইতিহাস উইন্ডিজ শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।

দু’দলের ব্যাটিং শক্তি ম্যাচকে রোমাঞ্চকর করে তুলবে। ভারতের তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মা আক্রমণাত্মক শুরু এনে দিতে পারেন। ইষাণ কিষাণের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া মাঝের ওভারে গতি বাড়াতে জানেন। পেস আক্রমণে জসপ্রিত বুমরাহ নির্ভুল ইয়র্কারে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেন। স্পিন বিভাগে বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল ইডেনের উইকেটে কার্যকর হতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত শোকের কারণে রিঙ্কু সিং এই ম্যাচে নেই, যা ভারতীয় শিবিরে এক আবেগঘন শূন্যতা তৈরি করেছে।

উইন্ডিজ শিবিরে শেমরান হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাট ঝড় তোলার জন্য প্রস্তুত। নিকোলাস পুরান মাঝের ওভারে গতি বাড়াতে পারেন। রাদারফোর্ড সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো ছন্দে আছেন। বোলিংয়ে আকিল হোসেন ও রোস্টন চেজ স্পিন নির্ভর পরিকল্পনায় ভরসা জোগাচ্ছেন। পেসারদের দায়িত্ব থাকবে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া।

ইডেন গার্ডেনসের পিচ এই আসরে আগে ব্যাট করা দলকে সুবিধা দিয়েছে। এখানে হওয়া তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে প্রথমে ব্যাট করা দল। স্কটল্যান্ড এক ম্যাচে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে নজর কেড়েছিল। ফলে টস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যে দল টস জিতবে তারা সম্ভবত আগে ব্যাট করতে চাইবে।

মানসিক দৃঢ়তাও আজ বড় ফ্যাক্টর। ভারত ঘরের মাঠের সমর্থন পাবে। হাজারো কণ্ঠে ‘মেন ইন ব্লু’ ধ্বনি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। অন্যদিকে উইন্ডিজের নির্ভীক মানসিকতা বড় ম্যাচে আলাদা মাত্রা যোগ করে। তাদের ক্রিকেট দর্শন সহজ—আক্রমণই সেরা রক্ষা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ম্যাচের গতি নির্ধারণ করবে পাওয়ারপ্লে। প্রথম ছয় ওভারে উইকেট হারালে দুই দলই চাপে পড়বে। আবার দ্রুত রান তুলতে পারলে আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হবে। মিডল ওভারে স্পিনারদের দ্বৈরথও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

সুপার এইটের এই লড়াই কেবল দুই দলের নয়, দুই ক্রিকেট সংস্কৃতিরও। ভারতীয় শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার বিপরীতে ক্যারিবীয়ানদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রাসন। একদিকে কৌশলগত হিসাব, অন্যদিকে নিখাদ শক্তির প্রদর্শন।

আজকের ফলাফল নির্ধারণ করবে কে এগোবে শেষ চারের পথে। সমর্থকেরা অপেক্ষায় এক শ্বাসরুদ্ধকর সন্ধ্যার। ইডেনের আকাশে হয়তো আবারও উঠবে উল্লাসের ঢেউ, কিংবা নেমে আসবে নিস্তব্ধতা। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি নিছক ম্যাচ নয়, বরং এক আবেগের পরীক্ষা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে। এখন কেবল অপেক্ষা প্রথম বল গড়ানোর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত