প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্চের আগমন মানেই শুরু হচ্ছে স্বাধীনতার মাসের মহিমান্বিত স্মৃতি। এই মাস মনে করিয়ে দেয় সেই অতীতের কঠোর সংগ্রাম, যা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। এক সময় অধিকার হারানো মানুষের লড়াই, নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম এবং ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাসকে আজও হৃদয়ে বেঁধে রাখে আমাদের। ১৯৭১ সালের মার্চে বাঙালি জাতি জীবন তুচ্ছ করে যুদ্ধে নামেছিল। নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা, শিশু ও পুরুষ—সবাই মিলে রচনা করেছিল মুক্তির রণাঙ্গন। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা, যা শুধু স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতীক নয়, বরং স্বাধীনতা এবং নিজস্ব সত্ত্বা আবিষ্কারের নেশার প্রতীক।
লাল-সবুজের পতাকা কেবল রাষ্ট্রের নয়, বরং সেই পতাকার রঙে লেখা আছে বাঙালির মুক্তির গল্প। যে ইতিহাসের পথে অগণিত মানুষ নিজের জীবন বাজি রেখে দাঁড়িয়েছে, তার প্রতিফলন আজকের সোনার বাংলার উর্বর মাঠে, শিশুর কণ্ঠে, মুক্ত বাতাসে এবং দোল খাওয়া ফসলের দুলে। স্বাধীনতা এসেছে এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুর উপত্যকা পেরিয়ে, তবু এ উজ্জ্বল দিন আমাদের নিত্যস্মৃতিতে অমলিন।
ত্রিশ লাখ শহীদ, লাখো মা-বোনের কান্না, সেই বঞ্চনার মুখে দাঁড়িয়ে অসীম সাহসী বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও প্রতিধ্বনিত হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হয়, কিন্তু তখনও বাংলার মানুষ তা সহ্য করেনি। রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির অমোঘ আহ্বান দেন।
যার যা কিছু ছিল, তাই নিয়েই জনগণ নেমে পড়ে মুক্তির সংগ্রামে। দেশ রূপ নিতে থাকে যুদ্ধের ময়দানে। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার এবং তাদের সহযোগীরা অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঘুমন্ত দেশের রাস্তায় উঠে আসে লাশের উপত্যকা, নিরস্ত্র মানুষ বুলেট ও বেয়নেটের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার উচ্চারণ দেশের মানুষকে দিশা দেখায়। বারুদ স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কোটি বাঙালি সশস্ত্র জনযুদ্ধে নামে। আকাশের পাখি, সমুদ্রের মাছের মতো অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর মুখে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ায়। কামানের চোখে চোখ রেখে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে মুক্তির লালিত স্বপ্ন রক্ষা করে।
সকল জায়গার সবুজের বুকে এতোটা রক্তলাল আঁকা হয়নি পৃথিবীর আর কোন দেশের মানচিত্রে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের প্রতিটি ভোরে আমাদের অর্জন, প্রতিবাদ, এবং সংগ্রামের নেপথ্যে সেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই স্পন্দিত হয়। প্রতিটি বাঙালি সন্তান নতজানু হয়ে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে। যুগে যুগে আমরা বলি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।