প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং বিমানবন্দরে আটকা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দরে যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে উপস্থিত হন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। তিনি আটকা পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোগান্তি ও সমস্যা শুনেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করেন। এ সময় তিনি জানান, যাত্রীদের থাকার ও খাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে যাত্রীদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাকে জানান, মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দরে ৫০ জন যাত্রী থাকার জন্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা করেছে, আর সিভিল এভিয়েশন আরও ৮০০ জনের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, বিশেষভাবে ওমানের মাস্কাটগামী ফ্লাইটের জন্য সিলেট থেকে ঢাকায় আসা ৫৩ জন যাত্রীকে হোটেলে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সেহরির সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আগামী দিনে তাদের জন্য এসি বাসের মাধ্যমে সিলেটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর ফলে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী এবং ইউরোপ–আমেরিকাগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধা তৈরি হয়। বিমানবন্দরটি হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চরম চাপের মধ্যে পড়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, খাবার, থাকা ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করার কাজ তদারকির জন্য স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যাত্রীদের খোঁজ নেওয়া এবং মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। তারা মনে করাচ্ছেন, যে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারলেই মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করে।
এদিকে, বিমান চলাচলের স্থগিতাদেশের ফলে বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক যাত্রী আটকা পড়ে, যার মধ্যে প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে একাধিক দিন বিমানবন্দরে আটকা রয়েছেন। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাদ্য, পানি ও থাকার জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমানসংস্থাগুলো বিকল্প রুট ও সময়সূচি পরিকল্পনা করছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি খোঁজ-খবর এবং মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের যৌথ পদক্ষেপে বিমানবন্দরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। সরকারের উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা প্রমাণ করে যে, অপ্রত্যাশিত সংকটেও দেশের নেতারা জনকল্যাণে প্রাধান্য দেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।