যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে না খেলার ইঙ্গিত দিল ইরান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে না খেলার ইঙ্গিত

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস বাকি, যখন ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার পর ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ শঙ্কার সুরে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। শনিবার তেহরানে এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আজ যা ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণের পর, এটা অসম্ভব যে আমরা (যুক্তরাষ্ট্রে) বিশ্বকাপ খেলতে যাবো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ নেবেন।”

ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলতে হবে। এ সময়ের মধ্যে এমন একটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা কেবল খেলোয়াড় নয়, সমগ্র ফেডারেশন এবং দেশটির ফুটবল সমর্থকদেরও উদ্বিগ্ন করেছে।

ইরানের ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলো ইতিমধ্যেই আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ইরান প্রো লিগের বেশ কিছু ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে, কারণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিদেশি খেলোয়াড়দের ফেরার পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র ক্রীড়া ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও মানবিক দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলছে। নিরাপত্তা এবং জীবননিরাপত্তার কারণে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

২০১৯ সালের সাম্প্রতিক ইতিহাসও ইরান ফুটবলের জন্য শিক্ষা হিসেবে রয়ে গেছে। সেই সময়ও ইসরায়েলের হামলার কারণে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা স্থগিত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য দলগুলো কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্রণ এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচিং স্টাফরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে যাওয়া সম্ভাব্য না হলে দলের প্রস্তুতি এবং ক্রীড়া মনোবল প্রভাবিত হতে পারে। খেলোয়াড়দের নিরাপদ পরিবেশে অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, চলমান সংকট এসব পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

মহাদেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, খেলাধুলা কখনও কখনও কূটনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবের শিকার হতে পারে। ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রীড়া নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য না অংশগ্রহণ কেবল ফিফা বিশ্বকাপের ফলাফলের ওপর নয়, ইরানের ক্রীড়া ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলবে।

ইরানের ফেডারেশন ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে এবং প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা এবং ফিফার সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি হয়ে উঠেছে। ফিফা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি জাতীয় গর্ব, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং খেলোয়াড়দের জন্য অভিজ্ঞতার বড় প্ল্যাটফর্ম। এই সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি ক্রীড়াবিশ্বের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান এখন ক্রীড়া, কূটনীতি ও নিরাপত্তার সমন্বিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়েছে।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ফুটবল কর্তৃপক্ষ ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক সফর এবং প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো বিবেচনাধীন। এই পরিস্থিতি কেবল ইরানের ফুটবল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ক্রীড়া পরিবেশকেও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই সংকট বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, দলীয় মনোবল এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্পর্ককে একযোগে প্রভাবিত করছে। সম্ভাব্য না অংশগ্রহণ ক্রীড়া দর্শক এবং সমর্থকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপকে যৌক্তিক মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায় আশা করছে যে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত