প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম অভিযোগ করেছেন, তাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) পাঠানো হয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে। তবে তিনি লিখিত জবাব দিতে চাননি। ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া শোকজপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর হামিম জানিয়েছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশ পাননি এবং এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পদ্ধতিতে তিনি অসন্তুষ্ট।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় হামিম বলেন, তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করে শোকজের কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তবে ফোনে জাহাঙ্গীর আলমও জানতেন না এবং তাকে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস করতে বলেছেন। ফলে তিনি লিখিত জবাব দেবেন না বলে ঘোষণা দেন।
হামিম আরও জানান, শোকজের অভিযোগের মূল বিষয় হচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ইফতার মাহফিল এবং কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই আয়োজন করেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন, রোজার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। ইফতারে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। হামিম বলেন, “আমি জানি না যে আমি কোনো বড় ধরনের অন্যায় করেছি। ছাত্রদলের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য কখনোই ছিল না। তাই লিখিত জবাব দেবো না।”
হামিমের বক্তব্যে উঠে এসেছে, তিনি এই আয়োজনের মাধ্যমে ছাত্রদলের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, “এই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আমার প্রাণের ছাত্রসংগঠন। বিগত দিনের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে মনোনয়ন পেয়েছিলাম এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল করেছি।”
শোকজপত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি হামিমের ক্ষোভের মূল কারণ। তিনি বলেন, “ফেসবুকে সরাসরি শোকজপত্র দেওয়ার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ আমাকে ফোন করছে, জানতে চাচ্ছে কেন আমাকে শোকজ করা হয়েছে। অথচ আমাকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়নি। আমি এই বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে জানি না। তাই লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করি না।”
হামিম জানান, তিনি সর্বদা মনে করেন, ব্যক্তি থেকে দল বড়, দল থেকে দেশ বড়। তিনি বলেন, “যদি আমার এই কাজের কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর যদি মনে করেন আমার সাথে অন্যায় হয়েছে, সেটাও আমি আপনাদের কাছে ছেড়ে দিচ্ছি।”
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া শোকজপত্রের বিষয়টি অনেকে সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাত্রসংগঠনে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে, হামিমের অবস্থান দেখাচ্ছে, ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও দলীয় নীতি মাঝে সমন্বয় না থাকলে অসন্তোষ এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
হামিমের এই মন্তব্য পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের নীতি ও দায়িত্বের সীমা তুলে ধরেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি শোকজ প্রাপ্ত হওয়ার কারণে লিখিত জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ছাত্রদল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলীয় নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের মধ্যে ভারসাম্য কতটা রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। তবে হামিম জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন না, কারণ বিষয়টি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে গেছে।