হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৩২ বার
ডা. মাহমুদা মিতু

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গাইনোকোলজিক্যাল জটিলতার কারণে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে ডা. মিতুর স্বামী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের আগে ডা. মিতু শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। এ সংকটময় মুহূর্তে রক্তদাতাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সকলের দোয়ায় প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে স্বামী উল্লেখ করেন।

অস্ত্রোপচারের পরেও ডা. মিতুর শারীরিক অবস্থায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ একাধিক সমস্যায় ভুগছেন। তার শরীরে সেপটিসেমিয়া, নিউট্রোফিলিয়া এবং ডি-ডাইমার, লিভার এনজাইম, সি-আর-পি, ডব্লিউবিসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সূচক বেড়ে গেছে। নতুন করে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ধরা পড়ায় তাকে ইনসুলিন দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নজরদারিতে থাকায় আপাতত তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়নি। তবে তারা জানাচ্ছেন, পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার জন্য আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

ফুসফুসে সংক্রমণ থাকায় আপাতত তার কেবিনে কোনো দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি এনসিপি নেতৃবৃন্দ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এনসিপি ডায়াস্পোরা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক আহাদ সিকদার বলেন, “অপারেশনের আগে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। দলীয়ভাবে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সবাই দ্রুত সুস্থতার কামনা করছেন।”

ডা. মিতুর স্বামী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। দোয়ায় সহযোগিতা করলে তার দ্রুত সুস্থতা সম্ভব হবে।”

ডা. মাহমুদা আলম মিতু দীর্ঘদিন ধরেই এনসিপি নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার অসুস্থতা দলীয় কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেও নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা একসঙ্গে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তপরিশোধের মাধ্যমে তার অবস্থা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে শারীরিক পুনর্বাসন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

নেত্রী ও চিকিৎসক দলের প্রতি সকলের দোয়া এবং সহমর্মিতা এখন অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুসফুসের সংক্রমণ, সেপটিসেমিয়া এবং উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা একসাথে থাকলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ ছাড়া ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই মুহূর্তে ডা. মিতুর পাশে থাকা পরিবারের সহায়তা এবং দলীয় নেতৃবৃন্দের সক্রিয় মনিটরিং তার দ্রুত সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত