প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড) দেশের অসচ্ছল ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মোট ২৯ হাজার ৮২৯ জনকে আইনি সেবা প্রদান করা হয়েছে। শুরুতে জেলা পর্যায়ে এ সেবা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণকে আইনের আওতায় আনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল স্থাপন করা হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মরত ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য আইনি সহায়তার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।
লিগ্যাল এইডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯ হাজার ৮২৯ জনের মধ্যে ২১ হাজার ৯৭১ জনকে সরাসরি আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৪৪৯টি মামলায় আইনি সহায়তা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮২০টি মামলা ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি এই সেবা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র আয়ের মানুষদের জন্য আইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার (এডিআর) মাধ্যমে ৩ হাজার ৩০৯টি মামলায় সেবা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৯২০টি মামলা সফলভাবে এডিআর প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া আদালতভিত্তিক সময় ও খরচ কমিয়ে মানুষের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান পৌঁছে দেয়। লিগ্যাল এইড দেশের আইনের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অসচ্ছল জনগণকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইনের কার্যক্রম পরিচালিত এই সংস্থা দেশের ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম বিচারপ্রার্থীরা আইনের আওতায় এসে তাদের অধিকার রক্ষা করতে পারছে, যা সমাজে ন্যায় ও সমতার প্রাচীর দৃঢ় করতে সহায়ক।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল জনগোষ্ঠী এখন আইনগত সহায়তার মাধ্যমে তাদের অধিকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে। বিশেষ করে শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য এই সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আইনি সহায়তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণ আদালতে তাদের বিচার চেয়ে সঠিক ও দ্রুত সেবা পেতে পারছে। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া মানুষের সময় ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাচ্ছে। এটি দেশের আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সমৃদ্ধ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং বিচার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম দেশের অসচ্ছল জনগণকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বড় অবদান রাখছে। আগামী দিনে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে দেশের মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজে ন্যায়, সমতা ও শান্তির ভিত্তি দৃঢ় হবে।