ঈদের পর ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল ফিতরের পর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এই পদগুলোতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদ অন্তর্ভুক্ত। নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক আবেদন করেছেন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গত ২৯ জানুয়ারি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রাথমিক নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিগগিরই পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেন। তিনি রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পরীক্ষা আয়োজন করা যেতে পারে।’

এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক ও ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন এসেছে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, যার মধ্যে এমসিকিউ ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা ৮০ নম্বরের, শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ১২ নম্বরের এবং মৌখিক পরীক্ষা ৮ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষা এক ঘণ্টার সময় থাকবে, যেখানে মোট ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। উত্তীর্ণতার জন্য প্রতিটি অংশে আলাদা করে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।

পরীক্ষার বিষয়বস্তুতে থাকবে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান যাচাই করা হবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

আবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদের বিপরীতে ২৬ হাজার ৮২৬ জন আবেদন করেছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি শূন্যপদে ১৯ হাজার ৮৩৮ জন, ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ৬২৭টি শূন্যপদে ৬ হাজার ৮২ জন আবেদন করেছেন। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে ২০২টি শূন্যপদে ১ হাজার ২৩৩ জন, কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে ৩৪টি শূন্যপদে ৫৩৩ জন, আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে ২১৯টি শূন্যপদে ১ হাজার ৫১৮ জন আবেদন করেছেন। ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে ৫৮৪টি শূন্যপদে ৫৫০ জন, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ পদে ৫১১টি শূন্যপদে ৫ হাজার ৬৩০ জন, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের অধ্যক্ষ পদে ২৫৭টি শূন্যপদে ৩ হাজার ১৮০ জন আবেদন করেছেন।

ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে ৩৪৩টি শূন্যপদের বিপরীতে ৯৯৫ জন, কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে ৫৩টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩৯০ জন, আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে ৩৭৭টি শূন্যপদের বিপরীতে ৭২৫ জন আবেদন করেছেন। দাখিল মাদরাসার সুপার পদে ৮৯৯টি শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৬৪৫ জন, দাখিল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সুপার পদে ৪০টি শূন্যপদের বিপরীতে ৪৯২ জন, দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার পদে ১ হাজার ৪টি শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৮৭ জন এবং নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে ৫০৪টি শূন্যপদের বিপরীতে ৪ হাজার ৩৭৫ জন আবেদন করেছেন।

নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও প্রতিভাবান শিক্ষক নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও দক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত