বগুড়ার ধুনটে আগুনে নিঃস্ব কৃষক পরিবার, ক্ষয়ক্ষতি লাখাধিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৭ বার
ধুনটে কৃষক অগ্নিকাণ্ড ক্ষতি

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে গেছে এক কৃষক পরিবার। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার আনারপুর গ্রামে ঘটে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, যার ফলে বসতবাড়ি, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের কেউ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাবেদ মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি ধার-দেনার মাধ্যমে চাষাবাদ করতেন। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে তার বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো বাড়ি ও মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়। জাবেদ মোল্লা বলেন, “আগুন আমাকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। আমি সরকারের সহায়তা কামনা করছি।”

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার হামিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় মানুষদের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুন লাগার সময় ওই বাড়িতে কেউ ছিলেন না। এই অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। স্থানীয় পুলিশও তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টহল জোরদার করেছে।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। আনারপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক জাবেদ মোল্লার বসতঘর ও আশেপাশের সম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি পূর্বেও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ছিল না, তাই এই অগ্নিকাণ্ড তাদের জন্য এক চরম দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

জাবেদ মোল্লার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে পরিবারের বাসস্থান, সঞ্চিত অর্থ এবং প্রয়োজনীয় বস্তুভাণ্ডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা তাদের জীবনের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশা করছে, সরকার এবং সমাজের সহমর্মিতা ও সহায়তা তাদের পুনর্গঠন এবং জীবিকার প্রতিস্থাপনে সহায়ক হবে।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তিনটি পক্ষই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকারকে তৎক্ষণাৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুরক্ষা নির্দেশনা দেওয়া হবে। কৃষক জাবেদ মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দীর্ঘদিন চেষ্টার প্রয়োজন হবে এবং সরকারের সহায়তা ছাড়া এটি প্রায় অসম্ভব।

এই ঘটনায় সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখিয়ে দেয়, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পুনর্গঠন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের সহায়তা কাম্য।

প্রতিবেদন অনুসারে, ধুনট উপজেলার এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং উপজেলা পরিষদকে নির্দেশ দিয়েছে। পরিবারটির পুনর্গঠন ও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সরকারের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com