মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্যারাট্রুপার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্যারাট্রুপার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ Pentagon অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ প্যারাট্রুপার ওই অঞ্চলে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, কারণ এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্যারাট্রুপাররা যুক্তরাষ্ট্রের 82nd Airborne Division-এর সদস্য, যারা দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের সক্ষমতার জন্য পরিচিত। নর্থ ক্যারোলাইনার Fort Bragg ঘাঁটিতে অবস্থানরত এই সেনারা আদেশ পাওয়ার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিমান থেকে প্যারাশুটের মাধ্যমে যেকোনো স্থানে অবতরণ করতে পারে। দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এই বাহিনীকে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের অন্যতম কার্যকর শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও কাজ করতে পারে।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে সেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ২০ মার্চ USS Boxer যুদ্ধজাহাজে করে কয়েক হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। ফলে নতুন করে প্যারাট্রুপার মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump একদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টের পর ইরান কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নেয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ৯ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সামরিক অভিযানে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ২৯০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫৫ জন সুস্থ হয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন বলে জানা গেছে। এই পরিসংখ্যান সংঘাতের তীব্রতা এবং সামরিক ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে নতুন করে স্থলযুদ্ধে জড়ানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ আমেরিকান ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করছেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এই ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে প্রশাসনের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুধু একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি কূটনৈতিক চাপ তৈরির অংশও হতে পারে। সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আলোচনায় বসার চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা দ্রুত আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হলেও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির দিকে। সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সংঘাতের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান বাস্তবতায় বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্যারাট্রুপার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে তা নির্ভর করছে সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত