প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে, যেখানে এখনও মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য বিদ্যমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) শিশুদের শিক্ষা, নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই দুদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ, কার্যকর এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলতে পারে। তিনি মনে করেন, এটি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখনও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই নিরাপদ, নৈতিক এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হবে, যাতে শিশুরা একটি সুরক্ষিত পরিবেশে বড় হতে পারে।
ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, শিক্ষকদের ট্যাব ও কম্পিউটার প্রদান, পাঠ্যসূচি হালনাগাদ এবং ডিজিটাল কারিকুলাম চালুর মতো পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের মানসিকতা, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক বিকাশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষা বৈষম্য কমাতেও এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক বিকাশ প্রক্রিয়া। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং মানসিক বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণে শুরু থেকেই মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তার ভাষায়, জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দক্ষ ও মানবিক হয়ে উঠবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যুব উন্নয়নের সমন্বিত কল্যাণমূলক কাজ তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মানবাধিকার উন্নয়ন এবং মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর মতো উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বর্তমান সময়ে নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, শিক্ষার প্রসার নারীর ক্ষমতায়নকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এ ধরনের সম্মেলনে বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নীতিগত বার্তা বহন করে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল শিক্ষার বিষয়টি বর্তমানে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্য শিক্ষায় প্রযুক্তির ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি প্রাসঙ্গিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।