পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে সারজিসের প্রশ্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
পঞ্চগড়-১ টাকার হিসাব প্রশ্ন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পঞ্চগড়-১ আসনে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১০ লাখ টাকার হিসাব কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সারজিস আলম তার পোস্টে দাবি করেন, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের ওই অর্থের বাস্তব ব্যবহার ও হিসাব জনগণের সামনে কোথায় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অন্য একটি আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, কিছু জনপ্রতিনিধি ইতোমধ্যে তাদের বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সব আসনে একই ধরনের স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না।

এই পোস্টে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, কিছু জনপ্রতিনিধি তাদের নিজ নিজ এলাকার বরাদ্দের বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন, তবে পঞ্চগড়-১ আসনের ক্ষেত্রে সেই স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সারজিস আলমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সারজিস আলম নিজেই। তিনি শাপলাকলি প্রতীকে এক লাখ আটষট্টি হাজার উনপঞ্চাশ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ওই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নওশাদ জমির এক লাখ ছিয়াশি হাজার একশ ঊননব্বই ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে ওই আসনটি রাজনৈতিকভাবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সারজিস আলম আরও ইঙ্গিত করেন যে, জনগণের টাকার হিসাব জনগণের কাছেই স্পষ্ট থাকা উচিত। তার মতে, সরকারি বরাদ্দ যখন জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়, তখন তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট আসনে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের ব্যবহার যদি প্রকাশ না করা হয়, তাহলে সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ও বিশেষ তহবিলের ব্যবহার নিয়ে প্রায়ই স্বচ্ছতার প্রশ্ন ওঠে। অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় উন্নয়ন বা সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করলেও তা জনসমক্ষে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক বিতর্কও বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নাগরিক জানিয়েছেন, ঈদ বা বিশেষ সময়ে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যদি সঠিকভাবে ও দৃশ্যমানভাবে বিতরণ করা হয়, তাহলে মানুষের আস্থা বাড়ে। কিন্তু হিসাব প্রকাশ না হলে সেই আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই ধরনের বক্তব্যকে অনেকে সমালোচনামূলক রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ কেউ এটিকে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিশেষ করে তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশের দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলমান রয়েছে।

সব মিলিয়ে পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ ও তার হিসাব সংক্রান্ত প্রশ্ন নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি করেছে। এটি শুধু একটি আসনের অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন নয়, বরং সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের কাছে তথ্য উপস্থাপনের সংস্কৃতি নিয়েও বড় ধরনের আলোচনা শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাহলে জনগণের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি রাজনৈতিক জবাবদিহিতার সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত