প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত বিশেষ কনসার্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ, যেখানে দেশের সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী শৃঙ্খলা, সক্ষমতা ও দেশপ্রেমের প্রতীকী প্রদর্শন করে থাকে। এবারের আয়োজনেও রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণির আগারগাঁও লাইট ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সড়ক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সড়ক, সৈয়দ মাহাবুব মোরশেদ রোডের শিশুমেলা ক্রসিং থেকে আগারগাঁও ক্রসিং এবং জুলাই স্মৃতি যাদুঘর ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সড়ক এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে।
এছাড়া যান চলাচলের চাপ কমাতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডাইভারশন বা বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ক্রসিংয়ের পশ্চিম প্রান্ত, আগারগাঁও লাইট ক্রসিংয়ের পূর্ব অংশ, শিশুমেলা ক্রসিং, জুলাই স্মৃতি যাদুঘর সংলগ্ন এলাকা এবং খেজুরবাগান ক্রসিংসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। ডিএমপি জানিয়েছে, এসব ডাইভারশন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ডাইভারশন চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন দিক থেকে আগত যানবাহনকে নির্ধারিত বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে। জাহাঙ্গীরগেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পশ্চিম অংশ হয়ে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং বা বিআইসিসি ক্রসিংগামী যানবাহনগুলো বিজয়সরণি হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে পারবে। একইভাবে মিরপুর-১০ থেকে মহাখালী, ফার্মগেট বা ধানমন্ডিগামী যানবাহনগুলোকে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং থেকে রাইট টার্ন করে শিশুমেলা হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ফার্মগেট ও বিজয়সরণি এলাকা থেকে আগত যানবাহনগুলোকে বেগম রোকেয়া সরণি ব্যবহার না করে খেজুরবাগান হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধানমন্ডি এলাকা থেকে মিরপুরমুখী যানবাহনগুলোকে মিরপুর রোড ও টেকনিক্যাল মোড় ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ডিএমপির মতে, এসব নির্দেশনা মেনে চললে যানজট কমবে এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
একই দিনে বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জিরোপয়েন্ট, গুলিস্থান, রাজউক এলাকা, দৈনিক বাংলা মোড় এবং মতিঝিলের আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, নির্ধারিত স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া এসব সড়কে অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
বঙ্গভবন কেন্দ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ, ডিআইটি রোড, ফজলে রাব্বি রোড এবং দিলকুশা এলাকার কিছু অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এসব এলাকায় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। জিরোপয়েন্ট, ইউবিএল ক্রসিং, গোলাপশাহ মাজার, শাপলা চত্বর এবং হাইকোর্ট এলাকা হয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে একটি বিশেষ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তের আড়ং ক্রসিং এবং পূর্ব প্রান্তের খেজুরবাগান ক্রসিং এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, সোনারগাঁও ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে আসা যানবাহনগুলোকে লেক রোড, উড়োজাহাজ ক্রসিং এবং মিরপুর রোড ব্যবহার করতে হবে।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে থাকে। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএমপি জানিয়েছে, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এই ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জাতীয় দিবসগুলোতে রাজধানীতে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে আগাম পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা জরুরি। এ ধরনের নির্দেশনা আগেভাগে জানানো হলে যাত্রী ও চালকেরা বিকল্প পথ ব্যবহার করে সময় বাঁচাতে পারেন।
স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গৌরবের প্রতীক। এই দিনকে ঘিরে রাজধানীতে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের বার্তা বহন করে। তাই অনুষ্ঠানগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপি জানিয়েছে, ট্রাফিক সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে নাগরিকরা ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চললে যানজট কম হবে এবং সবার যাতায়াত সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে জারি করা বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা নাগরিকদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের এই ঐতিহাসিক দিনে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।