বেতাগীতে জমি বিরোধে হামলা, আহত ৩

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার
বেতাগীতে জমি বিরোধে হামলা, আহত ৩

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় জমিজমাসংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের বিষয়টি কয়েকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকাল প্রায় চারটার দিকে বিবিচিনি ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির সামনে নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন নাজমুল (২৬), কাউয়ুম (৩৫) ও ফোরকান মোল্লা (৫০)।

এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলাকারীদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম মাসুম (৪০), আজাহার মোল্লা (৫১), আনোয়ার মোল্লা (৫২) সহ আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি অংশ নেন বলে জানা গেছে। হামলার সময় তাদের হাতে ধারালো রানদা, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আহতদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের দ্রুত বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আহত নাজমুল ও কাউয়ুমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ফোরকান মোল্লা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ হোসেন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকবার স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তার মতে, দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকেই এমন সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর-রশিদ হাওলাদার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হয়। এসব বিরোধ দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নেয়।

গ্রামীণ সমাজে জমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হওয়ায় এর মালিকানা নিয়ে বিরোধ প্রায়ই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো দলিল, সীমানা নির্ধারণ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে এ ধরনের সমস্যা জটিল হয়ে ওঠে। ফলে বিষয়টি সময়মতো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা না গেলে তা বড় ধরনের সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা কমানো সম্ভব।

বর্তমান ঘটনায় আহতদের সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা কমে আসবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত