বৃষ্টির পরও ঢাকার বাতাসে অস্বাস্থ্যকর দূষণের মাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার
ঢাকার বাতাস দূষণ অস্বাস্থ্যকর অবস্থা

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের নানা মেগাসিটিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণের মাত্রা। দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সাধারণত বৃষ্টি কিছুটা হলেও দূষণ কমাতে সাহায্য করে, তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পরও রাজধানীর বাতাসে দূষণ কমেনি। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার বায়ুমানের একিউআই স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৬৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আইকিউএয়ারের হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৬৩। এটি নির্দেশ করে যে, বৃষ্টির পরও দূষণ পরিস্থিতির কোনো তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ। শীর্ষে রয়েছে চীনের বেইজিং, যার বায়ুমানের স্কোর ২২৯ এবং ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যেখানে বায়ুমানের স্কোর ২০৮, যা 역시 ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই রয়েছে ১৭৫ স্কোর নিয়ে। চতুর্থ অবস্থানে চীনের হাংজু ১৭০ স্কোর নিয়ে, পঞ্চম অবস্থানে নেপালের কাঠমান্ডু ১৬৯ স্কোরসহ এবং সপ্তম অবস্থানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ১৬৩ স্কোরসহ রয়েছে। এছাড়া অষ্টম অবস্থানে চীনের উহান ১৫৩ স্কোর নিয়ে তালিকাভুক্ত। এই শহরগুলোর বায়ুমানের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স একটি সূচক যা বাতাসের মান নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত হলে তা ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত হলে ‘মাঝারি’, এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু এবং ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, আর অন্যদেরও বাড়ির বাইরে সক্রিয়তা সীমিত করতে বলা হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকার মতো মেগাসিটিতে বায়ুদূষণ মূলত যানবাহন, শিল্প কারখানা, নির্মাণকাজ, ধুলো ও আবহাওয়ার অস্থিতিশীলতার কারণে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিও যদি দীর্ঘ সময় ধরে ভারী না হয়, তবে তা দূষণ দূর করতে কার্যকর হয় না। শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নীতি ও প্রযুক্তিগত সমাধান প্রয়োজন। যানবাহনের নির্গমন কমানো, পরিচ্ছন্ন ইন্ধন ব্যবহার, সড়ক ও নির্মাণকাজের ধুলো নিয়ন্ত্রণ, সবকিছু মিলিয়ে একটি ব্যাপক উদ্যোগই দূষণ হ্রাসে সহায়ক হবে।

ঢাকার দূষণ পরিস্থিতি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, বরং অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এই দূষণ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দূষিত শহরগুলোও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। বেইজিং, দিল্লি, চিয়াং মাই, হাংজু, কাঠমান্ডু ও ইয়াঙ্গুনের মতো শহরে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকার বায়ুদূষণ বিষয়ক এই পরিস্থিতি দেখায়, যে শহরের অবকাঠামো, যানবাহন ও শিল্প কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু বৃষ্টিই দূষণ কমাতে যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ঢাকার বাতাসে দূষণের এই অস্বাস্থ্যকর মাত্রা জনগণের জন্য সতর্কবার্তা। সরকারের পাশাপাশি নাগরিকরাও জীবনের প্রতিদিনের অংশ হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে যানবাহনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রিন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এই উদ্যোগগুলোই শহরের স্বাস্থ্য ও বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত