প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বর্ণের দাম আরও কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ সমন্বয় করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দর অনুযায়ী, দেশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা এখন স্বর্ণ কিনতে পারছেন সবশেষ নির্ধারিত মূল্যে। এর ফলে বাজারে স্বর্ণের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে, যা গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক হিসাবে দেখা হচ্ছে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায়। এটি আগের সমন্বয়ের তুলনায় কম, যা ক্রেতাদের স্বর্ণ কেনার জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগের সমন্বয় হয়েছিল গত ১৯ মার্চ বিকেলে, তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। তখন একবারে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। গত ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই বছরের মধ্যে বাজুস এখন পর্যন্ত ৪৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে, যার মধ্যে ২৬ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২০ বার দাম কমানো হয়েছে।
রুপার বাজারেও সমন্বয় এসেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচা হচ্ছে। চলতি বছর এই পর্যন্ত দেশে ২৯ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৩ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে রুপার বাজারে ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি ও ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণ ও রুপার বাজারে সমন্বয় মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দর, বৈদেশিক মুদ্রার মান, জ্বালানি ও সোনার উৎপাদন খরচ, এবং স্থানীয় চাহিদা-যোগানের ওপর নির্ভরশীল। বাজুসের এই সাম্প্রতিক সমন্বয় বাজারকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্যও স্বল্পমূল্যে স্বর্ণ ক্রয় করার সুযোগ তৈরি করেছে।
স্বর্ণের দাম কমার ফলে বাজারে স্বর্ণ ব্যবসা কিছুটা সচল হলেও, ক্রেতাদের মধ্যে সঠিক তথ্য ও সময়মতো লেনদেন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য সময়মতো বাজার পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার সঙ্গে স্বর্ণের দরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার চলতি দর সমন্বয় ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বাজুসের নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও দর সমন্বয় দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারকে স্বচ্ছ ও গতিশীল রাখতে সহায়ক।