প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য র্যালি করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও জাতীয় চেতনা ধারণ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমবেত হতে থাকেন। ধীরে ধীরে সেখানে জমায়েত বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা একটি বড় মিছিলের রূপ নেয়। পরে সুশৃঙ্খলভাবে র্যালিটি বের হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
র্যালিটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, মৎস্যভবন হয়ে শাহবাগে পৌঁছায়। এই পথজুড়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। স্লোগানগুলোতে দেশপ্রেম, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাধীনতার চেতনা তুলে ধরা হয়। অনেকেই জাতীয় পতাকা বহন করেন, কেউ কেউ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন, যা র্যালির পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই র্যালিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেন এবং মহানগর পশ্চিমের সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি র্যালির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এসব স্লোগানে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কিত বার্তা প্রতিফলিত হয়। র্যালির পুরো সময়জুড়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা, যা দিবসটির তাৎপর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শাহবাগে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বক্তব্য দেন। তারা মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস স্মরণ করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এর আগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল র্যালি আয়োজন, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। এছাড়া রচনা, কুইজ, বইপাঠ, বিতর্ক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের কথাও জানানো হয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল কর্মসূচিতে।
সংগঠনের নেতারা জানান, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান। তাদের মতে, স্বাধীনতা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে র্যালি চলাকালে সাধারণ মানুষের মাঝেও কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই দাঁড়িয়ে র্যালি দেখেন, কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। যদিও কোথাও কোথাও যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, তবে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পুরো সময়জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চারই অংশ। তবে এসব কর্মসূচি যেন শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ভাষা ও বার্তাও যেন জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
দিনের শেষে এই র্যালি শুধু একটি রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং স্বাধীনতার স্মৃতি ও চেতনাকে নতুনভাবে স্মরণ করার একটি প্রয়াস হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস, উপস্থিতি এবং কর্মসূচির ব্যাপ্তি থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দিবসগুলো এখনও মানুষের মনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। এই দিবসকে ঘিরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের ইতিহাস, সংগ্রাম এবং অর্জনের কথা নতুন করে স্মরণ করে। ছাত্রশিবিরের এই র্যালিও সেই ধারারই একটি অংশ, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বার্তা বহন করে।