নাটকীয় প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ বার
নাটকীয় ম্যাচে ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও মাঠের উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গ্যালারির আবেগে কোনো কমতি ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে জমে ওঠা এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল এবং ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল। কাগজে-কলমে সমানতালে লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল ফ্রান্স, এমনকি একসময় ১০ জনে পরিণত হওয়ার পরও। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশম-এর শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুটা ছিল ব্রাজিলের দখলে। গ্যালারিতে সমর্থকদের সংখ্যাগত দিক থেকেও এগিয়ে ছিল তারা, যার প্রভাব পড়েছিল মাঠের খেলায়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। দ্রুত পাস, ডান-বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা—সব মিলিয়ে প্রথম ১৫ মিনিটে ফ্রান্সকে কিছুটা চাপে রেখেছিল তারা। এই সময়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া, কিন্তু সেটিকে গোলের রূপ দিতে ব্যর্থ হন তিনি। সুযোগ নষ্টের এই ব্যর্থতা পরবর্তীতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় ফ্রান্স। মাঝমাঠে বল দখল বাড়িয়ে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে থাকে তারা। ৩২ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দারুণ এক পাস থেকে সুযোগ তৈরি করেন উসমান দেম্বেলে। তার নিখুঁত পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে বল জালে পাঠান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলটি শুধু ম্যাচে লিড এনে দেয়নি, বরং ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রথমার্ধে ব্রাজিল বেশ কয়েকটি শট নিলেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি। অন্যদিকে ফ্রান্স তাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে আরও বেশি মনোযোগী ছিল। বিরতির পর ব্রাজিল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বলের দখল বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। কিন্তু ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ছিল সুসংগঠিত এবং দৃঢ়।

৫৫ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। ফ্রান্সের ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো একটি ফাউলের কারণে ভিএআরের সাহায্যে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এতে করে ১০ জনে পরিণত হয় ফ্রান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের জন্য ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই সময়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি ফ্রান্স।

বরং ৬৫ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। দারুণ এক থ্রু পাস দেন মাইকেল ওলিসে, যা ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন হুগো একিতিকে। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল, যা তাকে নতুন সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। ১০ জনের দল হয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন গোল করা ফ্রান্সের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল মরিয়া হয়ে ওঠে। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। অবশেষে ৭৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় দলটি। মিডফিল্ড থেকে দারুণ এক সেটআপ দেন ক্যাসেমিরো এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ডিফেন্ডার ব্রেমার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার প্রথম গোল, যা কিছুটা হলেও ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে।

শেষ মুহূর্তগুলোতে ব্রাজিল একাধিক আক্রমণ চালায় এবং সমতা ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্রান্সের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১০ জনের দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।

এই ম্যাচে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-এর পারফরম্যান্স। তার করা গোলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার মোট গোলসংখ্যা ৫৬-তে উন্নীত করেছে। এর ফলে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ওঠার খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য বড় আশার উৎস।

সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর এক অনন্য উদাহরণ। ব্রাজিল যেখানে সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি, সেখানে ফ্রান্স কম সুযোগ পেয়েও তা সফলভাবে গোল হিসেবে পরিণত করেছে। পাশাপাশি ১০ জনে নেমেও ম্যাচ জেতার মানসিকতা দেখিয়ে তারা প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল।

আসন্ন বিশ্বকাপের আগে এই জয় ফ্রান্সের জন্য বড় এক ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে। অন্যদিকে ব্রাজিলকে নিজেদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা কাটিয়ে ওঠার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং উচ্চমানের প্রতিযোগিতার এক চমৎকার উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত