প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপারিশ করা এই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না আসায় অফিসে কর্মীদের মধ্যে প্রতীক্ষা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা মূলত আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বরাদ্দকৃত তহবিল যথাযথভাবে নতুন পে স্কেলে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে কিনা।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়ার কারণে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয় নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য। সাবেক অর্থ সচিব ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। যথাসময়ে ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর এই সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না আসায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দেশে জ্বালানি সংকট ও রাজস্ব ঘাটতির কারণে নতুন পে স্কেল পুরোপুরি একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তারা মনে করছেন, এটি ধাপে ধাপে দেওয়া হতে পারে। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে পারে সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মসংস্থানে, অফিস কার্যক্রমে এবং কর্মকর্তাদের মনোবলেও।
আগামী ১১ জুন, বৃহস্পতিবার, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পেশ করা হবে। এবারের বাজেট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এবং এতে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন মূলত বাজেটের দিকে, কারণ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এই বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন যে, এই চাপের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা গেলে তা কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন পে স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে অফিসগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রতীক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে বিভিন্ন স্তরে আন্দোলন বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের এই সময়কালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাজেট ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চাপ ও অনিশ্চয়তা দূর হবে। তবে তারা সতর্কও যে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ছাড়া সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাবে পে স্কেল বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে, যা কর্মচারীদের মধ্যে প্রতীক্ষা ও অস্থিরতা অব্যাহত রাখছে।