কৃষক কার্ড: দেশের কৃষকরা পাবে ১০ সুবিধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
কৃষক কার্ড সুবিধা বাংলাদেশ কৃষি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ দেশের কৃষক সমাজে নতুন স্বপ্নের বাতাস বইয়ে এনেছে। এই কার্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবার ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, সরকারি ঋণ, সেচ সুবিধা এবং আরও মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অভাব ও প্রথাগত সমস্যাগুলো মাথায় রেখে সরকার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যাতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষি খাতে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা যায়।

কেরানীগঞ্জের প্রায় চার দশক ধরে কৃষিকাজে নিযুক্ত জয়নাল মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন সরকারি কোনো সুবিধা পাননি। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, যারা রাজনৈতিক পরিচিত বা স্থানীয় ক্ষমতাধরদের সঙ্গে সম্পর্কিত, তারা সুবিধা পেয়ে থাকেন, সাধারণ কৃষক প্রায়ই উপেক্ষিত থাকেন। জয়নালের মতো প্রবীণ কৃষক আব্দুল হাইও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এবার তাঁরা আশার আলো দেখছেন কৃষক কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে।

এই উদ্যোগের আওতায় কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা সহজলভ্য করা হবে। চার বছরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কার্ড বিতরণের জন্য ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আসন্ন পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করবেন, এবং এ কার্যক্রম দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সেচ সুবিধা এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলার ১০টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। কৃষকদের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে তাদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে সুবিধা প্রদান করা হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক কার্ড দেশের খাদ্য উৎপাদন ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের খাদ্যে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রফতানি সম্ভাবনাও প্রসারিত করবে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষক কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি কৃষকের উৎপাদনজনিত প্রতিবন্ধকতা কমাবে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাবে।”

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কৃষক কার্ড কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করবে ডিজিটাল ডেটাবেজ, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, কঠোর তদারকি এবং ভর্তুকি বিতরণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছালে এবং কার্ড কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

জয়নাল মিয়া এবং আব্দুল হাইয়ের মতো সাধারণ কৃষকরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে আশা করছেন যে, তারা সরকারী সহায়তা সরাসরি পাবেন এবং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতে এই নতুন দিগন্ত শুধু দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করবে না, বরং কৃষকদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত