প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাতক্ষীরার কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষকে লাভজনক এবং ভবিষ্যৎসমৃদ্ধ ফসল হিসেবে বিবেচনা করছেন। জেলার সাত উপজেলায় সম্প্রতি এই ফসলের চাষ এক বছরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত একই গাছ থেকে তেল ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে লবণাক্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত শ্যামনগর, আশাশুনি এবং কালিগঞ্জে উচ্চফলনশীল সূর্যমুখী চাষ বেশি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ ফুলে ভরা সূর্যমুখীর ক্ষেত পুরো মাঠকে এক গালিচার মতো ঢেকে দিয়েছে। এই দৃশ্য শুধু কৃষক নয়, সাধারণ দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে। অনেকে এখানে এসে সেলফি তুলছেন এবং কৃষি শিক্ষা গ্রহণ করছেন। কৃষকরা বলছেন, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে এবং তেল ও জ্বালানি সংগ্রহের সুবিধার কারণে এই ফসল তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করছে। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হলে চাষ আরও বাড়বে, যা কৃষকের পাশাপাশি সরকারের জন্যও লাভজনক হবে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সূর্যমুখীর চাষ বাড়াতে তারা কৃষকদের সঙ্গে কাজ করবেন। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তেল ফসল উৎপাদনে সূর্যমুখী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লবণাক্ত এলাকার কারণে এখানে ফলন ভালো হচ্ছে, যা দেশের তেল ফসলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। চাষিদের উৎসাহ এবং সরকারের সহায়তা মিলিয়ে এই ফসলের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাতক্ষীরায় ১০৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছিল। তবে এবার তা দ্বিগুণ হয়ে ২২৮ হেক্টরে পৌঁছেছে। এটি শুধু কৃষকের আয় বৃদ্ধি করছে না, দেশের তেল ফসল উৎপাদনে স্বনির্ভরতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সূর্যমুখী চাষ তাদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সঠিক প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ থাকলে এই ফসল থেকে লাভজনক ফলন আশা করা সম্ভব। তারা সরকারের সহায়তা পেলে এবং প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক সহজলভ্য হলে চাষকে আরও সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হবেন।
চাষিদের পাশাপাশি কৃষি বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, সূর্যমুখী চাষে আরও মনোযোগ দিলে এটি দেশের তেল উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৃষি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। কৃষকরা আশা করছেন, সরকারি প্রণোদনা, উন্নত প্রযুক্তি এবং স্বল্প খরচে উৎপাদনের সুযোগ মিললে এই চাষ শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল হয়ে উঠবে।