কালোবাজারির মজুত তেল সংকট সৃষ্টি করছে: মন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ।

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, কিছু কালোবাজারি ব্যবসায়ী মজুত রাখার মাধ্যমে তেলের সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দেশের তেলের সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে নতুন ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছি। জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা কালোবাজারি ও মজুত খেলার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পরিকল্পনা এবং তেল সংরক্ষণের নীতি অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের মূল্য হঠাৎ বৃদ্ধি বা দোকানে অভাব হওয়া কৃত্রিম সংকটেরই ফল।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী বলেন, সরকার কেবল তেলের সরবরাহ নয়, বিদ্যুতের উৎপাদন ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। নতুন স্থাপিত সৌর বিদ্যুকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও স্থায়িত্ব আসবে, যা দূর্গম অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এদিকে, তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন যে, ঘরোয়া ও শিল্প ব্যবহারের জন্য তেলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছি—কেউ তেলের মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে আইনের আওতায় আসবে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।”

মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তেলের রফতানি, আমদানি ও সরবরাহের তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে কেউ অসাধু কর্মকাণ্ড করতে না পারে। এ সময় তিনি দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপেরও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশ বান্ধব শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রসারণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এটি শুধু জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, দেশের অর্থনীতিকেও সমর্থন দেবে।”

মন্ত্রী বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হতে এবং সরকারী ঘোষিত নিয়ম মেনে তেলের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কঠোরভাবে কাজ করবে এবং কালোবাজারিদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

তেলের সংকট ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি শেষবারের মতো স্পষ্ট করেছেন, এই সমস্যা শুধুমাত্র প্রশাসনিক তদারকি দিয়ে সমাধান করা যাবে না, বরং সচেতনতা, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী জনগণকে আশ্বাস দেন যে, সরকার নিশ্চিত করবে, কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট দেশের সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

এছাড়া তিনি জানান, দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌর, বায়ু এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে তেলের উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এটি কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত