ঢাকায় বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’, সতর্ক থাকতে হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর দূষণ

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এয়ার কোয়ালিটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১৬২ স্কোর দেখিয়েছে, যা নাগরিকদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি শহরের মধ্যে ঢাকার বাতাসের মান অন্যতম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে থাইল্যান্ডের চেইং মাই, দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল এবং নেপালের কাঠমান্ডুতে ঢাকার তুলনায় আরও বেশি দূষণ বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরণের বায়ুদূষণ দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যাসহ হৃদরোগ বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ হলো পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা। আজ সকালে রাজধানীর বাতাসে পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত মানের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণেরও বেশি। এই সূচক অনুযায়ী, বেচারাম দেউরি, মাদানি সরণি, বারিধারা লেকসাইড, বারিধারা লেক পার্ক, গুলশান লেক পার্ক, উত্তর বাড্ডা, সাগুফতা ও দক্ষিণ পল্লবীর বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা বাতাস ভালো, ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর সাধারণভাবে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ ধরা হয়। ঢাকার ১৬২ স্কোর মানে সাধারণ জনগণও স্বাভাবিক কার্যক্রমে অসুবিধা অনুভব করতে পারে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করান, যানবাহন থেকে নিঃসৃত ধোঁয়া, শিল্পকলার অব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণ কাজ বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান। বিশেষ করে ঈদের ছুটির পরে যানজট ও নগরীর চাপে বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ছুটির দিন হওয়ায় যানবাহন তুলনামূলক কম থাকলেও শিল্পকলার ধোঁয়া ও নির্মাণ থেকে সৃষ্ট ধুলো দূষণের মাত্রা সীমিত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নগরবাসীকে মাস্ক ব্যবহার, বাইরে কম সময় থাকা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের দীর্ঘ সময় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ধূসর বায়ু ও PM ২.৫-এর প্রভাবে চোখ, গলা ও ফুসফুসে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঢাকা সিটির পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকলার নির্দিষ্ট দূষণ কমানোর ব্যবস্থা এবং সবুজ ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা হবে। তবে নাগরিক সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ মিলিয়ে কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ধূসর বাতাসের কারণে শহরের জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। স্কুল, কলেজ ও অফিসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঘরের ভেতরে শুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ঢাকার বায়ুদূষণ শুধু শহরকে অস্বস্তিকর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। বায়ুদূষণ কমাতে নগর পরিকল্পনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, শিল্পাঞ্চলের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত