প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনালেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা Virat Kohli। আইপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচেই তার ব্যাটে এসেছে ঝলমলে এক ইনিংস, যা দলকে এনে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জয়। ম্যাচজুড়ে তার আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
প্রথম ম্যাচে Royal Challengers Bengaluru-এর হয়ে ব্যাট করতে নেমে কোহলি ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করেন, বিশেষ করে ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচ শেষে নিজের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোহলি জানান, দীর্ঘ সময় বিরতি থাকলেও মাঠে নামার আগে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করে নেন। তার ভাষায়, যখনই তিনি মাঠে ফেরেন, তখন ১২০ শতাংশ প্রস্তুত হয়েই নামেন। এই আত্মবিশ্বাসই তাকে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে সাহায্য করে বলে তিনি মনে করেন।
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর কোহলি এখন মূলত আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টেই ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলেন। এর আগে গত বছরের জুনে আইপিএল ফাইনালের পর তিনি আর কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি। প্রায় ৯ মাস বিরতির পর এই ম্যাচ দিয়েই তিনি আবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ফিরলেন।
তবে এই বিরতিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না কোহলি। বরং তিনি মনে করেন, এই সময়গুলো তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক ব্যস্ত সূচির কারণে ক্লান্তির ঝুঁকি থাকলেও, বিরতি তাকে সতেজ রাখে এবং খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে।
কোহলি আরও বলেন, শারীরিক ফিটনেস এবং মানসিক উদ্দীপনা একসঙ্গে কাজ করলে পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, একজন খেলোয়াড়ের মূল লক্ষ্য শুধু দলে জায়গা ধরে রাখা নয়, বরং নিয়মিত পারফর্ম করে দলের সাফল্যে অবদান রাখা। এই মানসিকতাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কোহলির ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত পরিণত। ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে সাবধানী খেললেও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে নেন তিনি। ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর শেষের দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের দিকে নিয়ে নেন।
বিশেষ করে ১৬তম ওভারে টানা চার বলে ছক্কা, চার, চার ও চার—এই ঝড়ো ব্যাটিং মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার এই ইনিংস শুধু দলের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
৩৭ বছর বয়স পার করেও কোহলির ব্যাটিংয়ে এখনো দেখা যায় আগের সেই ক্লাসিক শটগুলো—ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ ও অন ড্রাইভ। নিজের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসব শট নিয়ে তিনি ফাঁকা সময়ে কঠোর অনুশীলন করেছেন। রিদম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই আসে বলে তার বিশ্বাস।
তার ভাষায়, তিনি কখনো এমন শট খেলেন না যেগুলো তার স্বাভাবিক খেলার বাইরে। বরং নিজের শক্তির জায়গাগুলোতে ভর করেই তিনি মাঠে নামেন এবং সেটিই তাকে সফল হতে সাহায্য করে। প্রতিটি ম্যাচকে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি, যেখানে ভালো শুরু করাই মূল লক্ষ্য।
এই ইনিংসের মাধ্যমে কোহলি আবারও প্রমাণ করেছেন, দীর্ঘ বিরতির পরও তিনি উচ্চমানের পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। তার অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং ফিটনেস দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে কাজ করছে। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে এমন ইনিংস ভবিষ্যতেও দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।