প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করা নির্মাতা তানিম নূরের পরিচালিত তারকাবহুল সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তি পাচ্ছে। আগামী ৩ এপ্রিল থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে, যেখানে কানাডার ১০টি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি এবং যুক্তরাজ্যের ৪টি প্রেক্ষাগৃহে প্রথম সপ্তাহে চলবে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো, যাতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি সিনেমার স্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো এই প্রদর্শনের দায়িত্ব পালন করছে। সিনেমাটি বিশ্বখ্যাত সিনেমা চেইন যেমন এএমসি থিয়েটার্স, রিগ্যাল সিনেমাস, সিনেপ্লেক্স, সিনেমার্ক, শোকেস সিনেমাস এবং সিনেওয়ার্ল্ডে প্রদর্শিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এএমসি থিয়েটার্স-এর ২১টি স্ক্রিন এবং রিগ্যাল সিনেমাস-এর ১৪টি স্ক্রিনে চলচ্চিত্রটি চলবে। কানাডার সিনেপ্লেক্সের ১০টি স্ক্রিনেও সিনেমাটি চলমান থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহামসহ আরও কয়েকটি বড় শহরের ৪টি প্রেক্ষাগৃহে রেভেরি ফিল্মস পরিবেশন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর কাস্টে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের পরিচিত অভিনেতা মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মওলা, জাকিয়া বারী মম এবং আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকে। এই তারকাবহুল দল সিনেমাটিকে একটি দর্শক-প্রিয় মানসম্পন্ন বিনোদনের রূপ দিয়েছে। দেশের দর্শকরা ইতিমধ্যেই ঈদুল ফিতরের সময় এই সিনেমার সাফল্য এবং ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স স্বীকৃতি দিয়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে ৫২টি স্ক্রিনে প্রদর্শন হলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ব্যবসায়িক দিক থেকে আগের পরিচালকের সিনেমা ‘উৎসব’-এর রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের বড় শহরে প্রদর্শনের ফলে চলচ্চিত্রটির ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা এবং অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত হবে।
এই সিনেমার আন্তর্জাতিক মুক্তি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের তৈরি চলচ্চিত্রগুলো শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দর্শক আকর্ষণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক সিনেমা চেইন এবং বৃহৎ প্রেক্ষাগৃহে বাংলাদেশি সিনেমার প্রদর্শন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, এবং অভিনয় মান দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দর্শকরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক দিক থেকে সিনেমাটির সাথে সহজেই সংযুক্ত হতে পারছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশীয় সংস্কৃতি এবং গল্প বলার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ দেশের সিনেমা শিল্পের আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর আন্তর্জাতিক মুক্তি শুধু ব্যবসায়িক দিকেই নয়, চলচ্চিত্র শিল্পের মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পরিচিতি এবং ভবিষ্যতে আরও বৈশ্বিক প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য পথ সুগম করবে। তারা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
সিনেমা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুক্তি চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দর্শকরা চলচ্চিত্রের গল্প, অভিনয় এবং প্রযোজনা মানের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। এর ফলে দেশের সিনেমা শিল্পে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি হবে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তার এবং নতুন দর্শক তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রেমী দর্শকরা বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় সিনেমাটি দেখতে এবং উপভোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সিনেমাটির আন্তর্জাতিক প্রদর্শন ব্যবসায়িক দিক থেকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে এবং চলচ্চিত্র প্রযোজকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মানোন্নয়ন করতে উৎসাহিত করবে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও দৃশ্যমান এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।