অর্থমন্ত্রী: বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি স্থিতিশীল রাখা জরুরি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গুরুত্ব

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের অর্থনৈতিক চিত্র এবং সরকারের লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার চাইছে টাকা ছাপানোর পথে না গিয়ে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে। বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে চাঙ্গা করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জিডিপি বৃদ্ধি ও কর-জিডিপি অনুপাতকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ একমাত্র পথ। যদি আমরা অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত না করি, তাহলে ট্যাক্স-জিডিপি বৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে যায়। আমাদের দৃষ্টিকোণ হলো ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়া।”

তিনি জানান, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতির অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন হলে বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। “আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা। নীতি পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়। তাই বাজেট তৈরি ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করার সময় এই বিষয়টি সর্বদা মাথায় রাখা হচ্ছে,” অর্থমন্ত্রী বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি বাজেট শুধুমাত্র খরচের হিসাব নয়; এটি বিনিয়োগের প্রতি আস্থা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। বিনিয়োগকারীরা যদি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে স্থায়ীতা দেখতে পান, তারা দেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী হবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন শিল্প ও ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোর বিকাশ সম্ভব হবে, যা দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতি এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে বিনিয়োগকারীরা দেশের ওপর আস্থা রাখে। বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দেশি বাজারে উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, নতুন ব্যবসা ও উদ্যোগ চালু হবে এবং সরকারের কর-উপার্জনও বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং দেশের সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন সুবিধা ও উদ্দীপক নীতি প্রণয়ন করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কর-সুবিধা, শিল্পাঞ্চলে সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতি স্থিতিশীল রাখা এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিল্পকে উৎসাহিত করা। এই নীতিগুলো দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমর্থন দেবে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের দেশের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিবেশের মানও বৃদ্ধি পাবে। এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।”

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ তৈরি করা। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি বাস্তবায়িত হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে এবং ঋণ নির্ভর অর্থনীতির ওপর চাপ কমে যাবে।

তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে সরকারি নীতি ও বাজেট পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাত্রা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে পরিবর্তন করবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

সংক্ষেপে, দেশের অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে দেশের অর্থনীতি স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত