প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বর্তমান সময়ে হামের সংক্রমণ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে পারে। শিশু, যাদের টিকা সম্পূর্ণ হয়নি, এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসক আফজাল ফেরদৌস বলেন, হামের ভাইরাস মূলত ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে একই ঘরে থাকা অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই ঘরে বা বাইরে যেখানে সম্ভাব্য সংক্রমণ বেশি, সেখানে মাস্ক ব্যবহার করা অপরিহার্য। শিশুদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম এবং টিকা না থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকেরা আরো বলেছেন, বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনে শিশুদের বাইরে না নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না থাকা এবং হাত নিয়মিত সাবান দিয়ে ধোয়া সংক্রমণ রোধে কার্যকর। ঘরের পরিবেশও সঠিকভাবে বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা করা দরকার যাতে ভাইরাস কণাগুলো দীর্ঘ সময় বাতাসে না ভেসে থাকে।
হামের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো সময়মতো এমএমআর ভ্যাকসিন গ্রহণ করা। চিকিৎসকরা বলেন, টিকা না থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। ভ্যাকসিন নেওয়া শিশুদের সংক্রমণ হলেও তা তুলনামূলকভাবে হালকা হয়ে থাকে এবং জটিলতা কম থাকে। অভিভাবকদেরকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাদের শিশুদের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করতে।
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোও সনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, চোখ লাল হওয়া, শরীরে লাল ফুসকুড়ি এবং কাশি-সর্দি থাকলে তা রোগের প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং ঘর থেকে অন্যদের দূরে রাখা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে জটিলতা রোধ করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তবে সঠিক সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উঁচু। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যেই সংক্রমণ মনিটর করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জনমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, পরিবারের অভিভাবকরা শিশুদের ঘরে রাখার পাশাপাশি ভিড় এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করুন। বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। রোগীর সঙ্গে সংস্পর্শ এড়ানো এবং নিয়মিত হাত ধোয়া সংক্রমণ কমাতে সহায়ক। এছাড়া শিশুরা যদি স্কুল বা খেলাধুলায় অংশ নেন, সেখানে সতর্কতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
বেশ কিছু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আইসোলেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছে যাতে আক্রান্ত রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা যায়। রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, যথাযথ সাবধানতা ও চিকিৎসা অনুসরণ করলে সংক্রমণ রোধ সম্ভব এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
সার্বিকভাবে, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এমএমআর টিকা গ্রহণ করাই মূল কৌশল। জনগণকে সচেতন রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।