প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে একটি ব্যস্ত দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এবং নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। সকালে সাড়ে ৯টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন। বৈঠকে তিনি ভূমিকম্পের সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। বৈঠকে সরকারি দপ্তরগুলোর ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা, জরুরি পদক্ষেপ, এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মানবসম্পদ প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকিমূলক এলাকা চিহ্নিত করে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কার্যকরী প্রস্তুতি গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং উদ্যাপন কর্মসূচির সময়সূচি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
এছাড়া, সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বিশেষভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েই দেশের স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ও অফলাইন ভিত্তিক ক্লাস চালুর প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকা বা শহরাঞ্চলে স্কুলগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন, যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায় এবং শিক্ষার মানও অব্যাহত থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে চলমান কার্যক্রম ও বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় কর্মচারীদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন, এবং জনগণের সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি নির্দেশ দেন যে সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকাণ্ড আরও ফলপ্রসূ করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ এবং বৈঠকগুলোতে সক্রিয় নির্দেশনা দেওয়ার ফলে সরকারি নীতিমালা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস প্রবর্তনের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে বিঘ্নও কমবে।
এই উদ্যোগ সরকারের প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষায় পদক্ষেপ এবং দেশের জ্বালানি সাশ্রয়ের নীতি বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ফলে, শহরাঞ্চলে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, শিক্ষা, জ্বালানি ও সামাজিক উদ্যাপন কার্যক্রমের ওপর মনোযোগ দিয়ে সরকারের কর্মসূচি আরও ফলপ্রসূ করার প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত আছেন। এটি জনগণের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে সুসংহত পদক্ষেপের প্রতিফলন।