বোরো মৌসুমে জিকে ক্যানালের পানিতে কৃষকের মুখে হাসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
বোরো মৌসুমে জিকে সেচ প্রকল্পের পানিতে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বোরো মৌসুমের শুরুতেই জিকে সেচ প্রকল্পের খালের পানির সরবরাহে মুখে হাসি পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে স্যালো মেশিন ও ডিজেল ব্যবহার করে ফসলের পানি দেওয়ার ঝামেলা থাকলেও এবার কৃষকরা বিনা খরচে ক্যানালের পানি ব্যবহার করে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি চাষ করছেন। পানির সহজলভ্যতা ফসলের ফলন বৃদ্ধি করছে, পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক বোঝাও কমিয়েছে।

বোরো ধান চাষে সবচেয়ে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ফসল দ্রুত শুকিয়ে যায়। আগে ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে প্রতিদিন বা একদিন পরপর মাঠে পানি দিতে হতো। তবে চলতি মৌসুমে দেশে ডিজেলের সংকট থাকা সত্ত্বেও জিকে ক্যানালের পানির কারণে কৃষকরা নির্বিঘ্নে সেচ কার্য চালাতে পারছেন। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্প থেকে ক্যানালে পানি সরবরাহ শুরু হয়। পদ্মা নদী থেকে দুটি পাম্পের মাধ্যমে পানি দেওয়া হচ্ছে, যা চুয়াডাঙ্গার সব ক্যানালে পৌঁছে গেছে।

পানি সরবরাহ শুরু হওয়ায় কৃষকরা ধান, সবজি, ভুট্টা ও কলা চাষে সুবিধা পাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় জিকে ক্যানালের আওতায় প্রধান খাল ৪১ কিলোমিটার, টারসিয়ারি খাল ২৬৩ কিলোমিটার, সেকেন্ডারি খাল ৭৫ কিলোমিটার এবং মাঠনালা ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত। চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্যানালের আওতায় রয়েছে। আলমডাঙ্গায় ৫০০ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের জন্য ক্যানালের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন কৃষক পানি ব্যবহার করছেন, যা ডিজেল ও মেশিন ব্যবহার করলে তাদের অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়ত এবং ফসলের উৎপাদন কমত।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক হাসমত আলি বলেন, “বোরো মৌসুমে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেওয়ায় ফসল ঠিকভাবে পানি পেত না। এবার ধান রোপণের পর থেকেই ক্যানালে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। সেই পানি ব্যবহার করছি। ফসল সবুজ ও সতেজ হচ্ছে, জমিতে পানি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।” আলমডাঙ্গার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, “বিনা খরচে ধানসহ অন্যান্য ফসলের জন্য পানি দিতে পারছি। মেশিন ভাড়া ও ডিজেল খরচ বাঁচছে। ক্যানালের পানি আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত, ফলে ফসলের গুণগত মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।” কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “ক্যানালে এখনও পানি প্রচুর আছে। আমরা যখন চাই তখন পানি ব্যবহার করতে পারি। এই সুবিধার মাধ্যমে চলতি বছর চাষ নির্বিঘ্নে শেষ করতে পারব।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “কৃষকরা পানি পেলে চাষে লাভবান হবেন। নির্দিষ্ট সময়ে জিকে কর্তৃপক্ষ পানি দিলে কোনো সমস্যা হবে না। ক্যানালের আওতায় থাকা সব কৃষক তাদের ফসলের জন্য পানি ব্যবহার করতে পারবে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, “কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাম্প হাউজের মাধ্যমে ক্যানালে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কোনো সমস্যা নেই। কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা সব সময় করা হয়। ক্যানাল দিয়ে সুন্দরভাবে পানি আসছে।”

চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের মতে, জিকে ক্যানালের পানি শুধুমাত্র বোরো ধান চাষে নয়, বরং সব ধরনের ফসলের উৎপাদন ও মান বৃদ্ধি করছে। এটি ডিজেল ও মেশিন ব্যবহার কমিয়ে কৃষকদের অর্থনৈতিক সাশ্রয় নিশ্চিত করছে। কৃষকেরা আশা করছেন, পানি সরবরাহ অব্যাহত থাকলে তারা আরও ভালো ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন। এই সেচ প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চুয়াডাঙ্গার মাঠের দৃশ্য এখন কৃষকের মুখে সন্তুষ্টির হাসি বয়ে আনছে। পানির সহজলভ্যতার কারণে বোরো মৌসুমে ফসলের সঠিক সেচ নিশ্চিত হচ্ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। এই প্রকল্প শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কৃষকদের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত