প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য একলাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর, যারা রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এক মাসের ব্যবধানে এমন বড় মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। মার্চ মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় সামান্য কমানো হয়েছিল। তবে এপ্রিল মাসে এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়। ফলে বিইআরসি নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।
এদিকে এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে অটোগ্যাসের দাম সামান্য কমানো হয়েছিল। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তাদের একাংশ বলছেন, এলপিজির দাম বাড়ায় তাদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। ইতোমধ্যেই খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ওপর এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। আমদানিকারকদের জন্যও এই পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবে তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজির ব্যবহার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলপিজির দামের ওঠানামা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ কমানো। অনেকেই মনে করছেন, এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির এই বড় মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর।