হাদি হত্যা মামলা: তদন্তে বিলম্ব, নতুন তারিখ ১৯ এপ্রিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
হাদি হত্যা মামলা

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকার আলোচিত হাদি হত্যা মামলায় পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালত নতুন করে আগামী ১৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করলেও, এই বিলম্ব ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে হতাশা বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা দাখিল করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত নতুন করে সময় নির্ধারণ করেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া আবারও কিছুটা দীর্ঘায়িত হলো।

মামলার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। সেদিন দুপুরে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাঁচেননি; ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পরদিনই হাদির সহকর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রথমে এটি হত্যাচেষ্টা হিসেবে দায়ের করা হলেও, হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। শুরু থেকেই মামলাটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তদন্তের প্রথম ধাপে গোয়েন্দা পুলিশ একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে, যেখানে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তবে এই চার্জশিট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী। তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করেন, যেখানে তদন্তের নানা অসংগতি তুলে ধরা হয়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। কিন্তু একাধিকবার সময় নেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব, আসামিদের পলাতক থাকা এবং তদন্তে সমন্বয়ের অভাব—এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিকভাবে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নিহত হাদির পরিবার ও সহকর্মীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা বিচারপ্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনঃতদন্তের ক্ষেত্রে সময় লাগা স্বাভাবিক হলেও তা যেন অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকতে হবে। তারা বলেন, একটি মামলার তদন্ত বিলম্বিত হলে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে এবং সাক্ষীদের স্মৃতিও দুর্বল হয়ে যায়, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাটির জটিলতা এবং আসামিদের অবস্থান শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কারণে তদন্তে সময় লাগছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই মামলাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে এই মামলার প্রতিটি ধাপই জনসাধারণের নজরে রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্ধারিত তারিখ ১৯ এপ্রিল ঘিরে এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে—সেদিন আদৌ তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে কিনা, নাকি আবারও সময় বাড়বে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মামলাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার মধ্য দিয়েই কেবল এই মামলার যথাযথ নিষ্পত্তি সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত