টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা বাংলাদেশে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা বাংলাদেশে

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের ফাইনাল খেলার নাটকীয় উত্তেজনা শেষ হলো বাংলাদেশের জয় দিয়ে। টাইব্রেকারের নাটকীয় লড়াই শেষে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। এই অনন্য সাফল্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে বাংলাদেশ দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণকে উজ্জীবিত করবে। দেশপ্রেম আর টিম স্পিরিটে উজ্জীবিত আমাদের সাহসী তরুণেরা প্রমাণ করেছে—ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিজয়রথ এভাবেই অব্যাহত থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’

ফাইনাল খেলা নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকার পর ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে গড়ায়। ভারতের হয়ে ঋষি সিংয়ের প্রথম শট দুর্বল হওয়ায় তা বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন ঝাঁপিয়ে আটকান। এই গুরুত্বপূর্ণ সেভই দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে যায়। এরপর ভারত টানা তিনটি গোল করলেও বাংলাদেশ হাল ছাড়ে না। টাইব্রেকারের মঞ্চে মোর্শেদ, চন্দন ও বদলি নামা রিয়াদ ফাহিম শান্তভাবে লক্ষ্য ভেদ করে দলের জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের সমাপ্তি আনে।

দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনাময় খেলার চতুর্থ শটে স্যামুয়েল রাকসাম বল ক্রসবারে আঘাত করলে দুই দল ৩-৩ সমতায় ফিরে আসে। এরপরই নাটকীয় মুহূর্ত আসে পঞ্চম শটে, ভারতের ওমাং দোদাম পোস্টের ওপর দিয়ে বল মারার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের শিরোপার দুয়ার খুলে যায়। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান দলের হয়ে সহজেই গোল করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন।

এই সাফল্য কেবল ক্রীড়া দিক থেকে নয়, দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টিম ও খেলোয়াড়দের ঐক্য, দক্ষতা ও ধৈর্য ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট ছিল। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই জয় শুধু শিরোপা জেতার আনন্দ নয়, বরং দেশের তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দলের প্রতি আনুগত্যের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন ও সমর্থন দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইব্রেকারের চাপ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চাপে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা চমৎকার ছিল। ইসমাইল হোসেনের দুর্দান্ত সেভ, মিডফিল্ডের কৌশলপূর্ণ খেলাধুলা এবং ফাইনাল স্ট্রাইকারদের সঠিক সময়ে গোল করার সক্ষমতা বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছে। ফাইনাল ম্যাচটি কেবল খেলার দিক থেকে নয়, দেশপ্রেম, সাহস ও ক্রীড়া অনুপ্রেরণার দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করে।

এবারের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া দুনিয়ায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ জয় তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এক ধরনের প্রেরণা হয়ে থাকবে। দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণ, বিশেষ করে ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দে মেতেছে। ফাইনাল শেষে উদযাপনের মাধ্যমে দলের উচ্ছ্বাস ও দেশের জন্য গর্ব প্রকাশ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন কেবল খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দেশের ক্রীড়া নীতি ও পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি সরকারের উদ্যোগে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন। এই প্রেরণার সঙ্গে দেশের ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কার্যকরভাবে তরুণ খেলোয়াড়দের সাপোর্ট ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারবে।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই সাফল্য কেবল একটি শিরোপা জেতার ঘটনা নয়, বরং দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দেশপ্রেম, দায়িত্বশীলতা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলাফলের প্রতিফলন এই জয়। টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় জিতেছে বাংলাদেশের সাহসী ও উজ্জীবিত তরুণেরা, যারা দেশের ক্রীড়া জগতে ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত