দোকান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
দোকান খোলা সময় বৃদ্ধি বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সরকারি সিদ্ধান্তে নতুন পরিবর্তন এসেছে দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার সময়সূচিতে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্ব নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে এখন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখা যাবে। রোববার দুপুরে এই ঘোষণা দেন তিনি, যা ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতি, ব্যবসায়ীদের দাবি এবং জনজীবনের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই ভারসাম্য রক্ষার জন্যই সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়েছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু দোকানপাট নয়, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এই সময়সূচির মাধ্যমে দিনের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সময়সূচি পরিবর্তন শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির, তখন অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ব্যবসায়ী মহলে এই সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বাড়ানো ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এটি এখনো পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রমজান বা উৎসবের সময়, যখন ক্রেতাদের উপস্থিতি সন্ধ্যার পর বেশি থাকে, তখন আরও দীর্ঘ সময় খোলা রাখার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এক ঘণ্টা বাড়ানোতে কিছুটা সুবিধা হবে, বিশেষ করে যারা কর্মব্যস্ততার কারণে সন্ধ্যার আগে কেনাকাটা করতে পারেন না। তবে অনেকে মনে করছেন, আরও সময় বাড়ানো হলে তা জনজীবনের জন্য বেশি উপযোগী হতো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করবে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর চাপ কিছুটা লাঘব করবে। তবে পরিস্থিতি কেমন থাকে, তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই সময়সূচিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত