রাজশাহীতে হামে শিশুর মৃত্যু বেড়ে ৪৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
রাজশাহী হামে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীতে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, ফলে জেলা এবং আশেপাশের এলাকায় এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬ জনে। দুই শিশু মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে, আরেকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে। গত শনিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনদিনে মোট আট শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট মৃত শিশুর সংখ্যা ৪৬।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশুদের আপডেটস বুলেটিনে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জন। হাসপাতালের শুরু থেকে বর্তমানে ভর্তিকৃত শিশুর মোট সংখ্যা ৪১১ জন। এই পরিস্থিতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগজনক হলেও প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ডিভিশনাল স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বিভাগের ১০ উপজেলার ৪০২টি কেন্দ্রে সোমবারও দ্বিতীয় দিনের মতো হাম রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। টিকাদানের মাধ্যমে শিশুরা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সকল কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।

স্থানীয়রা এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সকলকে ঘরে বসে টিকা প্রদানে অংশ নিতে অনুরোধ করছে। তারা জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধে শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান করানোও অপরিহার্য। শিশুরা ঘর থেকে বাইরে খেলাধুলা করার সময় হাত ধোয়া, খাবার এবং পানীয় জলের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে জরুরি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন ভর্তি শিশুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তাই প্রশাসন চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তৎপর রয়েছে। আইসোলেশান ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং নার্সিং স্টাফ নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যরা শিশুর অস্বাভাবিক জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা শারীরিক দুর্বলতা লক্ষ করলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং হাসপাতালগুলো সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকেও হামের উপসর্গযুক্ত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে, যাতে সরকারি হাসপাতালের উপর চাপ কমানো যায়। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশান বেড যথেষ্ট করা হলেও শিশু ভর্তি সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলো একযোগে কাজ করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে জনগণকে সচেতন করছে এবং পরিবারগুলোকে অনুরোধ করেছে, শিশুদের টিকা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাতে। তাছাড়া, সম্প্রদায়ভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রাম ও নগর এলাকার প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজশাহীতে হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং হাসপাতালগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তারা আশা করছেন, চলমান টিকাদান কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত