পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভিতে সহায়তা দেবে সরকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি সহায়তা

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ময়মনসিংহ টাউন হলে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী জানান, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে পরীক্ষার পরিবেশ আরও নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভুল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সামর্থ্য নেই, তারা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাবে। তবে এই সহায়তা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া বর্তমান সময়ে পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা কঠিন। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে দূর থেকে পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রভিত্তিক অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায় অবলম্বনের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ফুটেজ আর্কাইভে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে তদন্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে, যা ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুধু প্রযুক্তিগত নজরদারিই নয়, পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অনিয়ম প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট’ সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই আইনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষকদের উৎসবভাতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে এবং আসন্ন বাজেটের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পরে তা কার্যকর করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল এবং পোশাকসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে কিছু পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে, যা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পেত না, যা ছিল একটি বড় বৈষম্য। পরবর্তীতে সরকার উদ্যোগ নিয়ে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করেছে এবং এখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। যদিও এ ক্ষেত্রে কিছু আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল, তবে তা সমাধান করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও পরীক্ষাকেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা বাড়াবে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।

অভিভাবকরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরীক্ষার সময় অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায় এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত করে। সিসিটিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

সব মিলিয়ে, পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকারের এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত