প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আজ ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের বহু দেশসহ বাংলাদেশেও দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গুরুত্বের সাথে পালন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আজ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং সাধারণ মানুষকে সুস্থ জীবনধারা সম্পর্কে আরও সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’, যা স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ভূমিকা ও গুরুত্বকে সামনে রাখে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালনের ইতিহাস বহু বছরের পুরনো। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই দিনটিকেই পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন ১৯৪৬ সালে গৃহীত হলেও, ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় এবং সেই থেকে প্রতি বছর ৭ এপ্রিল এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি বছরে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য বিষয়কে প্রতিপাদ্য হিসেবে বেছে নেয়, যাতে সদস্য দেশগুলো ও সারাবিশ্বে জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতি মনোযোগী করা যায়।
দেশে আজ নানা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিবসটি উদযাপনের জন্য জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থাসমূহ ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ জীবনধারা বিষয়ে সজাগতা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষত জনসাধারণকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কর্মব্যস্ততা বজায় রাখা এবং নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হচ্ছে, যাতে সামগ্রিকভাবে একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত সমাজ গড়ে তোলা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সারাবিশ্বে মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সকলের কাছে স্বাস্থ্যসেবা সমানভাবে পৌছানো। এই দিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রিক সামাজিক উদ্যোগের জন্য একটি বড় মঞ্চ তৈরি করে, যেখানে সরকার, স্বাস্থ্যে নিয়োজিত পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে কাজ করে। দিবস উপলক্ষে দেশে আলোচনা সভা, স্বাস্থ্য সচেতনা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার শিবির এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজ জীবনের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজের স্বাস্থ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, রোগ প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলোচনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। আর এই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক স্তরেও কার্যকর ভূমিকা রাখে, যেখানে নানা দেশ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে নিজেদের নাগরিকদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। দিনটি প্রতিটি বছরই স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য মান উন্নত করার গবেষণা, পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস শুধু একটি দিন উদযাপনের বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা অধিকার ও সকলের জন্য সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক। প্রতিটি বছর এই দিনটি সমাজে স্বাস্থ্য উদ্বুদ্ধকরণ ও যত্ন, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবনধারা অর্জনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।