কিশোর গ্যাং দমন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
জয়নুল আবদিন ফারুক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরাসরি সংসদে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, যেখানে তিনি সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্য ও এর প্রভাবের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষ ও যুব সমাজের ওপর নেতিবাচক। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং তার আগের সময় থেকে এই সমস্যার উদ্ভব দেখা গেছে, যা এখনো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

ফারুক বলেন, “এই সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বিভাগীয় ডিআইজিদের (পুলিশের উপমহাপরিদর্শক) নির্দেশ দেন এবং থানা পর্যায়ে কার্যক্রম তৎপর করা হয়, তবে সবচেয়ে ভালো হবে।” তার দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সুষ্ঠু সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, বিশেষত সন্ধ্যার পর তাদের উপস্থিতি বেশি বৃদ্ধি পায়।

সংসদে তার বক্তব্যের সময় স্পিকারও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফারুক জানান, এই বিষয়ে তিনি পূর্বেই নোটিশ দিয়েছিলেন এবং সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানের জন্যও পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম শুধু অপরাধ নয়, এটি সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় সৃষ্টি করছে, যা শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

ফারুকের মন্তব্য অনুসারে, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য শুধুমাত্র শহরের বড় এলাকা বা শহরতলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ অঞ্চলেও তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগজনক। এমপির বক্তব্যে ফুটে ওঠে যে, কিশোর গ্যাং দমন না করলে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।

তিনি বলেন, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশি নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া জরুরি। কিশোররা যদি নিয়মিত শিক্ষা ও সঠিক পথ প্রদর্শনের সুযোগ পান, তা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে।

ফারুক আরও বলেন, “কিশোর গ্যাং যেসব এলাকায় সক্রিয়, সেখানে সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং ও সমাজিক পদক্ষেপ নিয়ে কিশোরদের সঠিক পথে রাখা সম্ভব।” তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নিলে কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে।

সংসদে তার আহ্বান দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষেত্রে সরকারী পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতে এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফলে, জয়নুল আবদিন ফারুকের এই পদক্ষেপ শুধু নোয়াখালী-২ এলাকার জন্য নয়, সমগ্র দেশের নিরাপত্তা ও যুব সমাজের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই আহ্বান সামাজিক সচেতনতা, জননিরাপত্তা এবং যুব সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে সরকারের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার দিকে গুরুত্ব প্রদান করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত