প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বকেয়া বেতনের দাবিতে অবরোধ করেন ইপিজেডের নাসা গ্রুপের শত শত শ্রমিক। সকাল ১০টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা প্রথমে কুচকুচ করে ইপিজেড এলাকা থেকে মহাসড়কে র্যালি করে আসেন এবং এরপর সড়ক দখল করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
শ্রমিকরা জানান, বহু মাস ধরে বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ না করায় তাদের পরিবারগুলো মানবিক সংকটে পড়ে গেছে। তারা জানান, কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এখনও কোনো পরিশোধ হয়নি। এতে ন্যূনতম জীবিকা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এক শ্রমিক বলেন, “আমাদের দাবি যদি দ্রুত না মানা হয় তাহলে আমরা আন্দোলন আরও তীব্রভাবে চালিয়ে যেতে বাধ্য হবো।”
বিক্ষোভকারীরা বলেন, গত কয়েকদিনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে এবং তাদের বকেয়া টাকা বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সমাধান দেয়নি। এই অবরোধ কর্মসূচি পূর্বেই ঘোষণা করা হয়েছিল এবং আজ তা বাস্তবায়িত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের যেকোনো যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এতে বহু যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার উপর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অবরোধ চালানোর পর স্থানীয় পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল মোস্তাফা বলেন, “শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেছি।” তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্কভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনা শুধু কুমিল্লা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; নাসা গ্রুপের অন্যান্য কর্মক্ষেত্রেও শ্রমিক সমস্যার পটভূমিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের খবর আছে। রাজধানীর তেজগাঁওসহ অন্যান্য স্থানে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নাসা গ্রুপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা কার্যকর হয়নি।
পরিবহন সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক রুট। যদি অবরোধ ঘটে, তা সারাদেশে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের জন্য বিপুল ক্ষতি তৈরি করে। চলতি মৌসুমে সড়কে গাড়ির দীর্ঘ tailbacks সৃষ্টি হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে এবং পরিবহন শিল্পের আর্থিক ক্ষতি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রস্তুত শিল্পখাতে শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা সময়মতো পরিশোধ না হলে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং কর্মক্ষেত্রের স্থিতিশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ও শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অপরিহার্য, বিশেষ করে বকেয়া সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে অনসোলভড থাকলে।