প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য ইতোমধ্যেই ‘১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি সাহসী ইরানি’ নিজের জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি নিজেও ব্যক্ত করেছেন, ‘আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’ এই বক্তব্য দেশজুড়ে শক্তিশালী দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ইরানের ওপর একাধিক ‘হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড’ চালিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সচিব আলি লারিজানির লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। এসব ঘটনায় ইরানের নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, পেজেশকিয়ান এবং ইরানের অন্যান্য নেতারা জনগণকে শক্তিশালী থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, এপর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বহু সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছে, যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর সংখ্যা ও আহতের পরিসংখ্যান ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর যুদ্ধের গভীর প্রভাব নির্দেশ করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, এই সময়ে ইরানের ১৫৫টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সেন্টকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে দুর্বল করা এবং প্রতিরক্ষা শক্তি হ্রাস করা।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। দেশের তরুণদের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ ও স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমে যোগদানের মাধ্যমে এই প্রস্তুতি আরও দৃঢ় হচ্ছে। পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবন উৎসর্গের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে অনুপ্রাণিত করছেন।
ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করছে। নিহত ও আহতের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জীবন রক্ষার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষ সর্বাধিক নিরাপদে থাকতে পারে।
উপরন্তু, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, এই সংঘাতের মধ্যে ইরানের জনগণের দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা উল্লেখযোগ্য। দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা এমন একটি উদাহরণ, যা সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে জনগণের মানসিক দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমকে তুলে ধরে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন দেশপ্রেমমূলক মনোভাব দেশের প্রতিরক্ষা ও সমগ্র রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের জনগণ ও সরকার একত্রিত হয়ে দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা প্রকাশ করছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা স্পষ্ট, দেশকে রক্ষা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তুত, এবং এই একতার মাধ্যমে ইরান প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।