প্রাথমিকের ২ লাখ শিক্ষার্থী পাবেন বিনামূল্যে ড্রেস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিকনির্দেশনা স্থাপন করবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। এ পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সুবিধা এনে দেবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

অধিবেশনের ১১তম দিনের সকালের বৈঠক স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া ৪৩টি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র স্কুল ড্রেস বিতরণ নয়, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে এবং সুস্থ জীবনধারায় প্রভাব ফেলবে। এছাড়া দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকার ১,৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপন করবে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য ‘এডু-আইডি’ চালু করা হবে। এটি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যা কর্মজীবনের প্রাথমিক প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২,৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮,২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ দূর করবে, তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ বাড়াবে। সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, বরং দেশের সব স্তরের শিক্ষার জন্য একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ও শিশুর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পাবে, ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এবং কারিগরি দক্ষতায় আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শিক্ষা খাতে সরকারের বর্তমান বিনিয়োগ দেশের মানবসম্পদকে শক্তিশালী করবে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে। সরকারের এই উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উৎসাহমূলক পরিবেশ তৈরি হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত