প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের এই কার্যক্রম সরাসরি যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, লেবাননসহ সব এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, যাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
গত মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায়। রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এই বিধ্বংসী হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ফ্রান্স পুরোপুরি লেবাননের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, “এই হামলাগুলো সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতিকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। সব পক্ষকে এটি মেনে চলা জরুরি।” একই বার্তা তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেও পৌঁছে দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলের এই হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা হবে না এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রও এই অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেছে এবং লেবাননকে দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করছে না।
ইরান এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্তে চুক্তির অবমাননা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।
ম্যাক্রোঁ আশা প্রকাশ করেছেন, সব পক্ষ যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চললে এটি বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে লেবাননসহ অঞ্চলীয় পক্ষগুলোর স্থিতিশীলতার দিক থেকে আলোচনা হবে। তবে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার কারণে এই আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে লেবাননের সাধারণ জনগণ এই হামলার মধ্যে আতঙ্ক ও ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বেড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে যদি হামলা চলতে থাকে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের দিকে তাকিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের ওপর অব্যাহত হামলা যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাঁধা সৃষ্টি করে। তিনি বার্তা দিয়েছেন, সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।
সংক্ষেপে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। ফ্রান্সের নিন্দা, ইরানের বিরক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানসহ এই ঘটনার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তার ওপর নিবদ্ধ।