প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে ট্রেন লাইনে হাঁটার সময় নিহত হয়েছেন শ্রী স্বপন কুমার সরকার (৫৫) নামে এক ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। নিহত স্বপন কুমার বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার উত্তর বাশকাটা গ্রামের রমেশ চন্দ্র সরকারের ছেলে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক এসআই মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে র্যাব হেড কোয়াটারের পাশে বিমানবন্দর স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেল ক্রসিংয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাওয়ার সময় কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এসআই মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর ওই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্বপন কুমার একজন পরিচিত ট্রাভেলস ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি নিয়মিতভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভ্রমণ করতেন। মোবাইলে কথা বলার সময় ট্রেনে কাটা পড়ার ঘটনায় তার পরিবার গভীর শোকে পতিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই রেল ক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতা বারবার উল্লেখ করা হলেও পথচারীরা প্রায়ই অসাবধানভাবে এখানে চলাচল করেন, যার কারণে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
ঢাকা রেলওয়ের বিমানবন্দর ফাঁড়ির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রেনলাইন এলাকায় নিরাপদ চলাচলের জন্য সাধারণ মানুষকে নিয়মিতভাবে সতর্ক করা হয়। তবে মোবাইলে বা অন্যান্য কাজে মনোযোগ না দিয়ে রেললাইনে হেঁটে যাওয়ায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
এই দুর্ঘটনা একদিকে পরিবারে শোকের ছায়া ফেললেও, অন্যদিকে রেল চলাচলের নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও浮িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের ব্যস্ত এলাকায় রেললাইনগুলোতে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা থাকা আবশ্যক, কারণ সামান্য অসাবধানতাও জীবনহানির কারণ হতে পারে।
এ ঘটনায় রেলওয়ে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রেললাইনে মোবাইলে কথা বলা বা অসাবধানভাবে চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিহত ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সরকারের পরিবার ও পরিচিতজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সমাজ।