জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে জবি ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার
জুলাই সনদ গণভোট বাস্তবায়ন

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখাজাতীয় ছাত্রশক্তি তাদের চাহিদা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বৃহস্পতিবার একটি মানববন্ধন আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ছাত্রশক্তির নেতারা অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয় ও শিক্ষানীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনের মূল দাবি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অর্জিত সনদ এবং গণভোটের জনরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস শেখ বলেন, দেশীয় রাজনীতিতে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে যে ধরনের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, তা কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক নয়, এবং বর্তমান প্রজন্মকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে রাজনৈতিক সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সদস্য সচিব শাহিন মিয়া মানববন্ধনে বলেন, বিএনপি এখন তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখন সেই আন্দোলনকে স্বীকার করছে না এবং জনগণের রক্তের মূল্য অস্বীকার করছে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দফতর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অযোগ্য বা পারিবারিক প্রভাবশালী লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারের উচিত এ ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা ভুলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধন, পৃথক বিচার বিভাগের অধ্যাদেশ বাতিল এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিপালিত করা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য সচেতন হতে হবে।

ফয়সাল মুরাদ আরও বলেন, পিএসসিতে দলীয় লোক বসানোর প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলগ্রহণ জনমতের সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য। তিনি বিএসিসিতে যে ধরনের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা দেশের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জুলাই সনদ এবং গণভোটের জনরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একদিকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা ও শিক্ষানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, অন্যদিকে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। ছাত্রশক্তির নেতারা দৃঢ়ভাবে মনে করেন, দেশের যুব সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও সচেতন না করা হলে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনমতের ক্ষতি হতে পারে।

এই মানববন্ধন শুধু রাজনৈতিক দাবির প্রতিফলন নয়, বরং শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তৈরি করারও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও সচেতন যুব সমাজকে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। মানববন্ধন শেষ হয় নেতাদের বক্তৃতা ও শিক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত