১০ দেশে সংবাদ সংস্থায় ডিজিটাল সহায়তা দেবে ওআইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬১ বার
১০ দেশের সংবাদ সংস্থায় ডিজিটাল সহায়তা দেবে ওআইসি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম বাস্তবতায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সংবাদ সংস্থাগুলোকে এগিয়ে নিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা। সংস্থাটির অধীনস্থ ইউনিয়ন অব নিউজ এজেন্সিস এবং ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ডের মধ্যে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০টি স্বল্পোন্নত সদস্য দেশের সংবাদ সংস্থাকে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।

গত ৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এই চুক্তি শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তা নয়, বরং তথ্যপ্রবাহের বৈশ্বিক বৈষম্য কমানোর এক বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের টিকে থাকা এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি অপরিহার্য। কিন্তু অনেক স্বল্পোন্নত দেশের সংবাদ সংস্থা এখনও সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

চুক্তির আওতায় যেসব দেশের সংবাদ সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে, তাদের জন্য অত্যাধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি করা হবে। এতে করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, সংরক্ষণ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এসব সংস্থা বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ইউনিয়ন অব নিউজ এজেন্সিসের মহাপরিচালক মুহাম্মদ বিন আবদুর রব্বো আল ইয়ামি এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল রূপান্তর শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং একটি বাধ্যতামূলক বাস্তবতা। সংবাদ সংস্থাগুলোর ইলেকট্রনিক রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে তাদের সংগঠন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত পরিবর্তিত গণমাধ্যম পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।

তার মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর সংবাদ সংস্থা শুধু প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হবে না, বরং তারা নিজেদের কনটেন্ট আরও বিস্তৃত পরিসরে উপস্থাপন করতে পারবে। এতে করে আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রবাহে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমে বহুমাত্রিকতা নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ সুলাইমান আবু আল খলিল বলেন, এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার একটি ফলপ্রসূ পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম বিশ্বের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও সভ্যতাগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই এই খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ডের অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সংবাদ সংস্থাগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব সংস্থা আন্তর্জাতিক মানের সংবাদ পরিবেশন করতে পারে না। ফলে তাদের সংবাদ বৈশ্বিক পরিসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। সংবাদ সংস্থাগুলো দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং অনলাইন পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারবে। এতে করে শুধু তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না, বরং অর্থনৈতিকভাবেও তারা লাভবান হতে পারে।

এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। একটি শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে সংবাদ সংস্থাগুলো সহজেই একে অপরের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও স্থানীয় খবরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়া এই প্রকল্প সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা নতুন নতুন কৌশল শিখতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পিছিয়ে থাকা মানেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়া। তাই ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-এর এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যৎমুখী। এটি শুধু সংবাদ সংস্থাগুলোর উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে তথ্য প্রবাহের একটি ভারসাম্য তৈরি করতে সাহায্য করবে।

সবশেষে বলা যায়, ডিজিটাল রূপান্তরের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গণমাধ্যম খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং জ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবে, যা বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহকে আরও সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত