চার বিভাগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
আবহাওয়া অফিস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের চারটি বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। এমন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জনজীবনে গরম ও আর্দ্রতার চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের আকাশে আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে এসব এলাকায় হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ধরনের বজ্রবৃষ্টির সময় স্থানীয়ভাবে ঝড়ো বাতাস বইতে পারে, যা কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকায় তাপমাত্রার অনুভূতি আরও বেশি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দিনের বেলা গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে।

গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার তথ্যে দেখা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সন্দ্বীপে, যা ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, যেখানে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এতে বোঝা যায়, দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া গরম ও আর্দ্রতার দিকেই যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাব ও স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত এই সময়টিতে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল থাকে, ফলে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধিও দেখা যায়।

এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে কৃষিখাতে মিশ্র প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হলেও বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া কৃষিজমিতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ধান, শাকসবজি ও মৌসুমি ফসলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নগর জীবনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, পথচারী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে। পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ার সময় গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও উঁচু স্থানে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া থাকবে মিশ্র প্রকৃতির। একদিকে কিছু অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, অন্যদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গরমের অনুভূতি—এই দুই মিলিয়ে জনজীবনে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্বাভাবিক মৌসুমি প্রক্রিয়ার অংশ বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত