৪৬২ রানের রোমাঞ্চে মুম্বাইকে হারাল বেঙ্গালুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
৪৬২ রানের রোমাঞ্চে মুম্বাইকে হারাল বেঙ্গালুরু

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আইপিএল ২০২৬-এর এক রোমাঞ্চকর ও রানবন্যার ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১৮ রানে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ৪ উইকেটে ২৪০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে আরসিবি। জবাবে ৫ উইকেটে ২২২ রানেই থেমে যায় মুম্বাই, ফলে দুই পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেঙ্গালুরু।

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তবে শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেন আরসিবির ওপেনার ফিল সল্ট। মাত্র ৩৬ বলে ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি মুম্বাই বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কা।

অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ বিরাট কোহলি ধীরস্থির কিন্তু কার্যকর ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ৫০ রান করেন। এটি ছিল তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ৬৫তম অর্ধশতক, যা দলের ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেয়। ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে আরসিবি শক্ত ভিত পায় বড় স্কোরের জন্য।

এরপর অধিনায়ক রজত পাটিদার ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। মাত্র ২০ বলে ৫৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচের গতি সম্পূর্ণ বদলে দেন। শেষদিকে টিম ডেভিডের অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় বেঙ্গালুরু। ওয়াংখেড়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই স্কোর ম্যাচটিকে উচ্চ রানের থ্রিলারে পরিণত করে।

২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ইনিংসের শুরুতেই রোহিত শর্মা চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, যা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনার রায়ান রিকেলটন ৩৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মুম্বাই।

আরসিবির বোলার সুয়াশ শর্মা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেন। মিডল অর্ডারে সূর্যকুমার যাদবকে আউট করে বড় ব্রেকথ্রু এনে দেন ক্রুনাল পান্ডিয়া, যা মুম্বাইয়ের রান তাড়ার গতি ভেঙে দেয়।

তবে শেষদিকে শেরফানে রাদারফোর্ড ঝড় তোলেন। মাত্র ৩১ বলে ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। তার ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত আর পারা যায়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২২২ রানে থেমে যায় মুম্বাই।

এই ম্যাচে মোট ৪৬২ রান হওয়ায় এটি আইপিএলের অন্যতম হাই-স্কোরিং ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। দুই দলের ব্যাটসম্যানরা দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত বোলিংয়ে শৃঙ্খলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার দক্ষতাই জয় এনে দেয় আরসিবিকে।

এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে চার ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আরসিবির এই জয় তাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং পরিকল্পনার সাফল্যকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতা এবং মাঝের ওভারে কার্যকর বোলিং দলটির জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।

অন্যদিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এই হার আবারও ব্যাটিং অর্ডারের অস্থিরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট হারানোর সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। রোহিত শর্মার চোটও তাদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে ওয়াংখেড়ের এই ম্যাচ ছিল দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় ব্যাটিং উৎসব, যেখানে শেষ হাসি হেসেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত