প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থাকা ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা পুনরায় ইস্যু করতে সম্মত হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহ থেকেই কার্যকর হতে পারে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সহযোগিতা এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানির জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তার মতে, এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক হলে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ এখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে এবং বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে সক্ষম হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিএনপি দেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশা করেন। তার মতে, জনগণের ম্যান্ডেট থাকায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারছে।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্রসচিব দিল্লি সফর করেন। ওই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান অগ্রগতি এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। ওই সময় বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারের সামনে বিভিন্ন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতির কারণে ভারত তখন অধিকাংশ ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে দেয়।
পরবর্তীতে কিছু জরুরি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসা চালু থাকলেও পর্যটক ভিসা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। এতে করে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক কারণে ভারতগামী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়।
নতুন ঘোষণার ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সীমিত পরিসরে হলেও ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসা চালু হলে হাজারো রোগীর জন্য এটি স্বস্তির খবর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও চিকিৎসা সহযোগিতাও আরও সহজ হবে।
তবে এখনো পর্যটক ভিসা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সাধারণ ভ্রমণকারীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সেটিও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় চালুর সম্ভাবনা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।