মাইলস্টোনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৭ বার
মাইলস্টোনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা শুরু

প্রকাশ: ২৯ শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে গত ২১ জুলাই সংঘটিত বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর মানসিক আঘাত পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এবং পড়ালেখায় মনোযোগী করার লক্ষ্যে বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেবা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করা অভিভাবকরাও মানসিক সমর্থনের জন্য এই কাউন্সেলিং সেন্টারে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এই সেবা চলেছে।

বিমানবাহিনীর বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাকের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ক্যাম্পাসের তিনটি পৃথক ভবনে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাকর্মীদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছেন। ক্যাম্পাসেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর স্থাপিত অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পেও চলছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেবস্মিতা রায় তার বাবা মনোজ রায়ের সঙ্গে কাউন্সেলিং সেন্টারে এসেছিলেন। দেবস্মিতা বিধ্বস্ত ঘটনার সময় ক্যাম্পাসেই ছিল এবং মর্মান্তিক দৃশ্য দেখার ফলে বর্তমানে মানসিকভাবে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। কাউন্সেলিংয়ে তাকে ভয় কমানোর পরামর্শ দেয়া হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শিখানো হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভ্র সাধু এখনও কথা বলতে পারেন না। তার মায়ের কথায়, তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাই সন্তানের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে এসেছেন।

মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে এখনো অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছেন। একজন অভিভাবক জানান, তাঁর সন্তান এতটাই আতঙ্কিত যে ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করতে চায় না। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখতে এসেছেন এবং বললেন, এভাবে তাদের সন্তানদের মৃত্যুকে মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

এই দুঃখজনক ঘটনার পর থেকে মাইলস্টোনে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তবে শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিতে ক্যাম্পাসে এসেছেন। গণিতের শিক্ষক আবু জাফর জানান, সহপাঠীদের হারানোর শোক এখনও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে, তাই তারা মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।

বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার ওয়ালিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিভাবক তাদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্সেলিং সেন্টারে এসেছেন এবং বিমানবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে এই সেবা দিচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর একতলা ভবনের একটি কক্ষে আহত ও নিহত শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাগে সাদা কাগজে নাম ও পরিচয় লেখা রয়েছে, যা দেখে অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং কথাবার্তা বলছেন, যেন একে অপরকে মানসিক সমর্থন দিচ্ছেন।

এই ঘটনা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষক সমাজে গভীর দুঃখ ও শোকের ছাপ রেখেছে। বর্তমানে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে চলছে এক নিরবিচ্ছিন্ন মানসিক সেবার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে এই সঙ্কটময় সময় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com